গীতবিতান-GITABITAN
ও কেন চুরি ক'রে চায়।

Certificate

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১২৯০ (১৮৮৩)
কবির বয়স: ২২
প্রকাশ: ১৮৮৫ , রবিচ্ছায়া (বিবিধ)
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): প্রেম-প্রেমবৈচিত্র্য; ৩৯১/৪২১
রাগ / তাল: মিশ্র বেহাগ / দাদরা
স্বরলিপি: গীতিমালা; স্বরবিতান ৩২
স্বরলিপিকার: জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
তাল আড়খেমটা [গীতিমালা]।
পাঠভেদ:
নুকোতে গিয়ে হাসি, হেসে পলায়  --[ গীবিন ] ১ম সং (১৩৩৮)।  

আলোচনা

দুর্নীতি কাব্যে সংক্রামক হইয়া দাঁড়াইয়াছে। তাহার উচ্ছেদ করিতে হইবে, যাঁহারা ধর্ম ও নীতির দিকে তাঁহারা আমার সহায় হউন।

... উদাহরণ দিতে হইবে? রবীন্দ্রবাবুর প্রেমের গানগুলি নিন,' সে আসে ধীরে ', ' সে[ও]কেন চুরি করে চায় ', ' দুজনে দেখা হল ' ইত্যাদি বহুতর খ্যাত গান-- সবই ইংরাজি কোর্টশিপের গান। তাঁহার ' তুমি যেও না এখনি ' , ' কেন যামিনী না যেতে জাগালে না ' ইত্যাদি গান লম্পট বা অভিসারিকার গান। ... আশ্চর্যের বিষয় এই যে এরূপ গানে মৌলিকতাও নেই। শয়ন রচনা করা, মালা গাঁথা, দীপ জ্বালা, এ সকল ব্যাপার বৈষ্ণব কবিদিগের কবিতা হইতে অপহরণ। স্থানে স্থানে পঙ্‌ক্তিকে পঙ্‌ক্তি উক্তরূপে গৃহীত। তবে রবিবাবুর সঙ্গে বৈষ্ণব কবিদিগের এই প্রভেদ যে, রবিবাবুর কবিতায় বৈষ্ণব কবিদিগের ভক্তিটুকু নাই, লালসাটুকু বেশ আছে। (১৪১)  
     --দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, কাব্যে নীতি, সাহিত্য মাসিক পত্রিকা, জ্যৈষ্ঠ ১৩১৬  



 

 

৩৯১

ও কেন   চুরি ক'রে চায়।
লুকোতে গিয়ে হাসি   হেসে পালায়।
বনপথে ফুলের মেলা,   হেলে দুলে করে খেলা--
চকিতে সে চমকিয়ে   কোথা দিয়ে যায়॥
কী যেন গানের মতো   বেজেছে কানের কাছে,
যেন তার প্রাণের কথা   আধেকখানি শোনা গেছে।
পথে যেতে চ'লে   মালাটি গেছে ফেলে--
পরানের আশাগুলি   গাঁথা যেন তায়॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

১৮৮৩ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ: সত্যেন্দ্রনাথের সঙ্গে পশ্চিম ভারতের সমুদ্রতীরে কারোয়ার শহরে বাস ও 'প্রকৃতির প্রতিশোধ' রচনা। ৯ই ডিসেম্বর মৃণালিনী (ভবতারিণী) দেবীর সঙ্গে বিবাহ। প্রকাশিত বই: বৌঠাকুরানীর হাট, প্রভাতসংগীত, বিবিধ প্রসঙ্গ।

বহির্বিশ্বে: জাতীয় কংগ্রেসের অগ্রদূত ন্যাশনাল কনফারেন্সের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত। ইলবার্ট বিল (ভারতীয় বিচারকদের শ্বেতাঙ্গ অপরাধী বিচারের অধিকার সম্পর্কিত) নিয়ে আন্দোলন। বেঙ্গলি পত্রিকার সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারাবরণ। ব্রিটেন মিশর অধিকার করলো। শিবনাথ শাস্ত্রীর কিশোর মাসিক 'মুকুল' আর শিবনাথ শাস্ত্রী ও অন্যান্যদের সম্পাদনায় 'সঞ্জীবনী' পত্রিকার প্রথম প্রকাশ। মৃত্যু: যদুভট্ট, তুর্গেনিভ, কার্ল মার্ক্‌স্‌ ; চিত্রশিল্পী মানে। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: ট্রেজার আইল্যাণ্ড (স্টিভেনসন), দাস স্পেক জরথুস্ত্র (নীট্‌শে)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  



১৩৩৮ (ইংরেজী ১৯৩১) সালে আশ্বিন মাসে "গীত-বিতান" প্রকাশিত হোলো দুখণ্ডে, বিশ্বভারতী গ্রন্থালয়, ২১০ কর্ণওয়ালিস স্ট্রীট, কলকাতা থেকে। প্রকাশক জগদানন্দ রায়, ছাপা শান্তিনিকেতন প্রেস। বাইশশো কপি ছাপা হয়। সংকলন হোলো কালানুক্রমিক -- ১৩০৩ সালে প্রকাশিত 'কৈশোরক' থেকে শুরু করে ১৩৩০ সালের 'বসন্ত' অবধি। বইটিতে কোনো লিখিত ভূমিকা ছিলোনা, সংগ্রাহক সুধীরচন্দ্র কর একটি সংক্ষিপ্ত 'পাঠ-পরিচয়' -এ লিখলেন "মোট ১১২৮টি গান লইয়া গীত-বিতান ১ম ও ২য় খণ্ড প্রকাশিত হইল। কবির নির্দেশমতো এই সংগ্রহ হইতে ১৪৮টি গান বাদ পড়িল। " তৃতীয় খণ্ডের প্রকাশ ১৩৩৯ শ্রাবণে, ঐ একই প্রকাশন, প্রকাশক ও ছাপার সংখ্যা নিয়ে। এটিরও বিন্যাস কালানুক্রমিক -- ১৩৩২ সালের প্রবাহিণী থেকে ১৩৩৮-এর গীতোৎসব পর্যন্ত। গানের সংখ্যা ৩৫৭। অর্থাৎ সবশুদ্ধ ১৪৮৫টি গান গীত-বিতানের তিন খণ্ডে সংগৃহীত হোলো।

প্রথম সংস্করণের পর থেকেই কবি বইটির "ব্যবহারযোগ্যতা" নিয়ে চিন্তা করছিলেন। তার নমুনা পাওয়া যায় প্রথম সংস্করণের সূচীপত্রের মার্জিনে যেখানে তিনি স্বহস্তে গানের পাশেপাশে সম্ভাব্য বিষয় চিহ্নিত করেছেন। দ্বিতীয় সংস্করণের ছাপার কাজ শুরু হয় ১৩৪৫ (ইংরেজী ১৯৩৮) সালে। রবীন্দ্রনাথ এবারে নিজে হাল ধরেছেন, বিষয়বিন্যাস থেকে, গানের মার্জনা, প্রুফ দেখা কিছুই বাদ নেই। ২৩শে বৈশাখ, ১৩৪৫-এ সুধীরচন্দ্র করকে এক চিঠিতে লিখছেন, "গীতবিতানের প্রুফ দেখে দিলুম। ছাপাটায় যথাসম্ভব ঠাস বুনুনির দরকার, কারণ গানের বই সহজে বহন করবার যোগ্য হওয়া চাই, অকারণ ফাঁক বর্জনীয়। প্রত্যেক পর্যায়ের গান সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত করতে বলেছি। ভিন্ন ভিন্ন পর্যায়ের শিরোনামা দেওয়া সম্ভব হয়নি, অথচ ইঙ্গিতে তাদের ভিন্নতা রক্ষিত হয়েছে। সংখ্যা পরিবর্তনে পর্যায়ের পরিবর্তন নীরবে নির্দিষ্ট হতে পারবে -- ভাবুক লোকের পক্ষে সেই যথেষ্ট।...

একটা কথা বলে রাখি, অন্য সকল বইয়ের মধ্যে 'গীতবিতানে'র দিকের [?] আমার মনটা সবচেয়ে বেশি তাড়া লাগাচ্ছে -- নতুন ধারায় ও একটা নতুন সৃষ্টিরূপেই প্রকাশ পাবে। "  

গীতবিতানের প্রথম আর দ্বিতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় সংস্করণের মুদ্রণ শেষ হলে কবিকে মুদ্রিত গ্রন্থের এক খণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকাশ হয় ১৩৪৮ সালের মাঘ মাসে, অর্থাৎ কবির মৃত্যুর ছমাস পরে। তৃতীয় খণ্ডের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশ হতে আরো অনেকদিন লাগলো -- ১৩৫৭ সালের আশ্বিন পর্যন্ত। ১ম ও ২য় সংস্করণের 'বিজ্ঞপ্তি'-তে জানানো হযেছিল যে "গীত-বিতান দুই খণ্ড মুদ্রিত হইয়া যাওয়ার পর কবি আরও অনেকগুলি গান রচনা করিয়াছিলেন, এই সকল গান তৃতীয় খণ্ডে শীঘ্রই প্রকাশিত হইবে। " তৃতীয় খণ্ডের সম্পাদনা করলেন কানাই সামন্ত। নানান ভাবে বিন্যস্ত হয়ে তৃতীয় খণ্ডটির আরো তিনটি সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে।