গীতবিতান-GITABITAN
হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১৩ আষাঢ় ১৩১৭ (১৯১০)
কবির বয়স: ৪৯
রচনাস্থান: বোলপুর
প্রকাশ: চৈত্র ১৩১৭ , তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা |
গীতাঞ্জলি। (১৯১০) র-র ১১
Gitanjali 65; The Music of Hindosthan, Fox-Strangways
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-বন্ধু; ৮৫/৪০
রাগ / তাল: ইমন‌কল্যাণ‌ / একতাল
স্বরলিপি: গীতলিপি ৪; সঙ্গীত গীতাঞ্জলি; স্বরবিতান ৩৭
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়; ভীমরাও শাস্ত্রী; সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাদটিকা:
মাঘোৎসবে গীত।
পাঠভেদ:
রচিয়া তুলিছে বিচিত্র এক বাণী
  --[ গীবিন ] ১ম সং ১৩৩৮।  

আলোচনা

মুসোলিনির নিমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের জুন মাসে রবীন্দ্রনাথ ইটালি যান। সেখানে টুরিন শহরে ২০শে জুন এক মহতী সভায় তাঁর বক্তৃতার পরে শ্লাভালিপো এভিট্‌জকা নামে এক মহিলা কবি তিনটি বাংলা গান করেন -- ' হে মোর দেবতা ', ' আমি চিনি গো চিনি ' ও ' যদি তোর ডাক শুনে কেউ '। সেই সফরের ভ্রমণসঙ্গিনী নির্মলকুমারী মহলানবিশ লিখছেন: "বিদেশী ঢং-এ গাওয়া হলেও তার স্বদেশী রঙ চাপা পড়েনি। বিশেষ করে 'যদি তোর ডাক শুনে' গানটা যেন চিরকালের চেনা সুরেই শুনতে পেলাম। শ্রোতার দল কবির সঙ্গীতের আভাস পেয়ে প্রশংসায় উচ্ছ্ব্সিত, হাততালি বহুক্ষণ আর থামে না।" (৯৮)  
     --সমীর সেনগুপ্ত, গানের পিছনে রবীন্দ্রনাথ, প্যাপিরাস, ২০০৮  



 

 

৮৫

হে মোর দেবতা, ভরিয়া এ দেহ প্রাণ
কী অমৃত তুমি চাহ করিবারে পান?।
    আমার নয়নে তোমার বিশ্বছবি
    দেখিয়া লইতে সাধ যায় তব কবি,
    আমার মুগ্ধ শ্রবণে নীরব রহি
       শুনিয়া লইতে চাহ আপনার গান॥
আমার চিত্তে তোমার সৃষ্টিখানি
রচিয়া তুলিছে বিচিত্র তব বাণী।
    তারি সাথে, প্রভু, মিলিয়া তোমার প্রীতি
    জাগায়ে তুলিছে আমার সকল গীতি--
    আপনারে তুমি দেখিছ মধুর রসে--
       আমার মাঝারে নিজেরে করিয়া দান॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

ইংরেজী গীতাঞ্জলির ৬৫-নং গান:

LXV

W HAT divine drink wouldst thou have, my God, from this overflowing cup of my life?
     My poet, is it thy delight to see thy creation through my eyes and to stand at the portals of my ears silently to listen to thine own eternal harmony?
     Thy world is weaving words in my mind and thy joy is adding music to them. Thou givest thyself to me in love and then feelest thine own entire sweetness in me.

  
     --Gitanjali (Song Offerings) by Rabindranath Tagore

A Collection of Prose Translations made by the Author from the Original Bengali, MacMillan, London March, 1913

  


১৯১০ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  রথীন্দ্রনাথের বিবাহ। 'রাজা' রচনা। শান্তিনিকেতনের নানা উন্নতি -- মেয়েদের বোর্ডিং, শিশুদের জন্য নতুন বাড়ি, ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি। 'প্রায়শ্চিত্ত' অভিনয়, ধনঞ্জয় বৈরাগীর ভূমিকায় কবি। প্রকাশ: শান্তিনিকেতন ৯-১১, গোরা, গীতাঞ্জলি, রাজা।

বহির্বিশ্বে: লণ্ডনে ইণ্ডিয়া সোসাইটির প্রতিষ্ঠা, রদেন্‌স্টাইন সভাপতি, ফক্স স্ট্র্যাংওয়েজ সম্পাদক -- এই সোসাইটিই প্রথম ইংরেজি গীতাঞ্জলি প্রকাশ করে। সপ্তম এডওয়ার্ডের মৃত্যু, পঞ্চম জর্জ পরবর্তী ব্রিটিশ সম্রাট। জাপানের কোরিয়া জয়। পর্তুগালে প্রজাতন্ত্র স্থাপন। চীনে দাসত্ব প্রথার বিলোপ। নাসিক মামলায় বিনায়ক সাভারকারের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর। লিও টলস্টয়, ফ্লোরেন্‌স নাইটিংগেল ও রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা ডুনাণ্টের মৃত্যু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: হাওয়ার্ড্‌স এণ্ড (ফর্স্টার), দি ভিলেজ (বুনিন)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


অবশ্য একটা কথা প্রায়ই শোনা যায় যে রবীন্দ্রনাথের গান একঘেয়ে। এর মত ভুল কথা আর নেই। সাধারণ লোকের এরকম ধারণা হবার কারণ রবীন্দ্রনাথের গানের অফুরন্ত সংখ্যা ছাড়া আর কিছুই নয়। যিনি প্রায় দু'হাজার গান লিখেছেন তাঁর কিছু-কিছু গান এক ঢংয়ের হতে বাধ্য; গায়ক-গায়িকারা অনেক সময় পর-পর অনুরূপ ঢংয়ের গান করেন ব'লে শ্রোতাদের মনে এই রকম ভ্রান্ত ধারণা জন্মায় যে রবীন্দ্রনাথের গান একঘেয়ে। আসলে তাঁর গানে সুরের বৈচিত্র্য যত বেশী কোনো ভারতীয় সুরকারের রচনায় আজ পর্যন্ত ততটা দেখা যায়নি; তাঁর বিভিন্ন গানগুলোর সুর বিশ্লেষণ ক'রে দেখলেই একথা স্পষ্ট হবে।  
     --হিমাংশুকুমার দত্ত, সুরকার রবীন্দ্রনাথ, কবিতা রবীন্দ্র সংখ্যা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশীতিতম জন্মদিনে প্রকাশিত, ২৫শে বৈশাখ, ১৩৪৮,  সম্পাদক: বুদ্ধদেব বসু (পুনর্মুদ্রণ ১৪০৯)