গীতবিতান-GITABITAN
এ মণিহার আমায় নাহি সাজে-

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ৮ ভাদ্র ১৩২০ (২৪ অগাস্ট,১৯১৩)
কবির বয়স: ৫২
রচনাস্থান: লণ্ডন, Chyene Walk
প্রকাশ: ১৯১৪ , গীতিমাল্য ৩৪ র-র ১১ |
Fruit Gathering 11
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-বিবিধ; ৪৮৯/১৯৩
রাগ / তাল: ইমন‌কল্যাণ‌ / একতাল
স্বরলিপি: আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা; গীতলেখা ৩; স্বরবিতান ৪১
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী; দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
পাঠভেদ:
পরা্‌তে গেলে লাগে...
তবে আমি বাঁচি
  --[ গীবিন ] ১ম সং ১৩৩৮।  

আলোচনা

১৯১২-১৩ সালের বিদেশযাত্রা শেষে রবীন্দ্রনাথ অক্টোবর মাসে দেশে ফিরলেন। কালিদাস নাগ লিখছেন: "হঠাৎ মনে পড়ে গেল ফিরে আসবার পর তাঁকে নিয়ে আমরা ঘিরে বসেছি, তাঁর একপাশে মনোমোহন ঘোষ, অন্য পাশে আচার্য ব্রজেন্দ্রনাথ শীল। তাঁরাও আমাদের সঙ্গে মিলে জিদ ধরলেন-- কবি একটা গান করুন। কবি কেন যে গেয়েছিলেন, 'এ মণিহার আমায় নাহি সাজে'-- তা অনেক পরে বুঝেছি।" (৫০)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  



অজিতকুমার [চক্রবর্তী] লিখেছেন: "ইংলণ্ডে গুণীসমাজ কবির গলায় যে প্রশংসার মালা পরাইয়া দিয়ছিলেন সে সম্বন্ধে একটিমাত্র গান গীতিমাল্যে আছে-- '   এ মণিহার আমায় নাহি সাজে '।" একটি মাত্র গান? প্রত্যক্ষত হয়তো তাই; কিন্তু একটু ভিতরদিক থেকে দেখলে মনে হবে যে 'গীতিমাল্য'র উত্তরাংশের একটা বড়ো আবেগই আসছে বাইরের মত্ততা থেকে নিজের কেন্দ্রকে বাঁচিয়ে রাখবার এক সতর্ক বোধ থেকে। এভাবে দেখলে বোঝা যায় যে এ গানটি কোনো বিচ্ছিন্ন গান নয়, তার ঠিক ছ-মাস পরে লেখা এসব গানেও আছে ওই একই অনুভব:' সভায় তোমার থাকি সবার শাসনে '।

সভা আর ঘরের এই বিরোধে, সবার আর একার এই বিরোধে যে 'গীতিমাল্য'র অনেকগুলি গান ভরে আছে, তা একেবারে আকস্মিক নয় নিশ্চয়। 'এ মণিহার' গানটির পরদিনই কবি লিখবেন "মনে হল আকাশ যেন কইল কথা কানে কানে" ['   ভোরের বেলা কখন এসে ']। সেই নিভৃত ভোরের সংলাপ থেকে তিনি অর্জন করে নিতে চাইবেন তাঁর জীবনীশক্তি, ঘরকে তিনি করে তুলবেন তাঁর আত্মস্থতার মুদ্রা। তাই জ্যোৎস্নারাতে সবাই যখন বনে চলে যায় তখনো তাঁকে বহু যত্নে সাজিয়ে রাখতে হবে তাঁর নিরালার ঘরখানি, যেন কোনো প্রেরণার মুহূর্তের প্রতীক্ষায়, "যদি আমায় পড়ে তাহার মনে" ['   আজ জ্যোৎস্নারাতে   ']।  একেবারে ভিন্ন দেশের এক আধুনিক কবি জাঁ কক্‌তো, তাঁর সৃষ্টিপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন যে কবি আছেন তাঁর রাত্রির অধিকারে, কোনো এক গহন আবির্ভাবের জন্য তাঁকে ধুয়ে মুছে রাখতে হয় ঘর। অমলেরও সামনে এসে রাজকবিরাজ বলেছিলেন: "এই ঘরটি রাজার আগমনের জন্যে পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখো।" এ হলো তবে সেইসব ঘর, যেখানে দাঁড়িয়ে জীব্নকে আর সুন্দরকে তার অন্তঃস্বরূপে দেখতে পাওয়া যায়। এই দেখা থেকে জেগে ওঠে মৃত্যু, মৃত্যুর ভূমিকায় জীবন, এই দেখা থেকেই জেগে ওঠে শিল্প। মৃত্যু আর শিল্প এইভাবে কখনো এক জায়গায় এসে মিলে যায়। আত্মসৃষ্টির সঙ্গে 'গীতিমাল্য'-র গানগুলি সেই শিল্পসৃষ্টিরও নেপথ্য্ঘর। তাই এত বেশি গানের গান ছড়িয়ে আছে এই বইটিতে, তাই এখানে এমন করে তিনি বলতে পারেন যে '   প্রাণে গান নাই ' বা "প্রকাশ করি, আপনি মরি" ['   সে দিনে আপদ আমার ']। (৪৮)  
     --শঙ্খ ঘোষ, এ আমির আবরণ, প্যাপিরাস, ১৯৮২  


 

 

৪৮৯

                 এ মণিহার আমায় নাহি সাজে--
এরে    পরতে গেলে লাগে,   এরে ছিঁড়তে গেলে বাজে॥
               কণ্ঠ যে রোধ করে,   সুর তো নাহি সরে--
       ওই দিকে যে মন পড়ে রয়,   মন লাগে না কাজে॥
                      তাই তো বসে আছি,
       এ হার তোমায় পরাই যদি তবেই আমি বাঁচি।
              ফুলমালার ডোরে   বরিয়া লও মোরে--
       তোমার কাছে দেখাই নে মুখ    মণিমালার লাজে॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

XI

I t decks me only to mock me, this jewelled chain of mine.
    It bruises me when on my neck, it strangles me when I struggle to tear it off.
    It grips my throat, it chokes my singing.
    Could I but offer it to your hand, my Lord, I would be saved.
    Take it from me, and in exchange bind me to you with a garland, for I am ashamed to stand before you with this jewelled chain on my neck.

  

Front Page
   These translations are of poems contained in three books -- Naivedya, Kheya, and Gitanjali... ; and of a few poems which have appeared only in periodicals.
  
     --Sir  Rabindranath Tagore, Fruit-Gathering, Macmillan, New York, 1916.  



১৯১৩ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  শিকাগো এবং হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা। ক্যাক্সটন হলে বক্তৃতাগুচ্ছ। দেশে প্রত্যাবর্তন। নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি এবং তার সংবাদপ্রাপ্তি। কবি সংবর্ধনা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক 'ডি লিট' উপাধি প্রদান। প্রকাশ: Chitra, The Crescent Moon, The Gardener, Glimpses of Bengal Life, Sadhana.  

বহির্বিশ্বে: প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র (রাজা হরিশচন্দ্র) নির্মাণ করলেন দাদাসাহেব ফাল্‌কে। এডিসনের টকি ফিল্ম আবিষ্কার। হরদয়াল গদর পার্টি স্থাপন করেন, এঁরা পরে আমেরিকার সান্‌ ফ্রান্‌সিস্কো অঞ্চলে ভারতের স্বাধীনতার পক্ষে আন্দোলন শুরু করেন। সিমলায় প্রথম টেলিফোন এক্স্চেঞ্জ। ভারতবর্ষ -- জলধর সেন ও সন্দেশ - উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী প্রকাশ। নিল্‌স বোরের পরমাণু তত্ত্বের প্রচার। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: কুহু ও কেকা (সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত), সন্‌স অ্যাণ্ড লাভার্স (লরেন্স), প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা ( হোয়াইটহেড, রাসেল), রিমেম্‌ব্রেন্‌স অফ থিংস পাস্ট ১ (প্রুস্ত)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮