গীতবিতান-GITABITAN
আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে

Book Cover

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ২৩ আশ্বিন ১৩২১ (১০ অক্টোবর,১৯১৪)
কবির বয়স: ৫৩
রচনাস্থান: বুদ্ধগয়া
প্রকাশ: ১৯১৪ , গীতালি ৮৬ র-র ১১
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-শেষ; ৫৯১/২৩২
রাগ / তাল: কালাংড়া / কাহারবা
স্বরলিপি: বিশ্বভারতী পত্রিকা (১৩৬০); স্বরবিতান ৪৩
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
পাঠ্ভেদ:
ধুলার 'পরে করি খেলা...
আঘত খেয়ে বাঁচি, কিম্বা...
আমার সাথে খেলাও হেসে,
    [ গীবিন ] ১ম সং ১৩৩৮।  

আলোচনা

১৩৪৮ সালের ২৫শে বৈশাখে গুরুদেবের জন্মোৎসব নিয়ে সমস্ত বাঙলাদেশ যখন মেতে উঠল, ... শান্তিনিকেতনে ফিরে এসে গুরুদেবের সঙ্গে দেখা করতে গেছি। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, পঁচিশে বৈশাখের দিন এখানে কী হবে। কথাবার্তায় বুঝলাম সেই জন্মদিন উপলক্ষ করে নৃত্যগীত ইত্যাদির আয়োজন হোক এই তাঁর ইচ্ছা। জন্মদিনের আগে একদিন সন্ধ্যায় প্রশ্ন করি, "উৎসবের সময় '   আবার যদি ইচ্ছা কর ' গানটি কি গাইব।" তাঁর জন্মদিনের গানের কথা তাঁকে জিজ্ঞাসা করাতে আপত্তি করে বললেন, " তুই বেছে নে, আমার জন্মদিনের গান আমি বেছে দেব কেন।" একটু পরে উপরের গানটির প্রসঙ্গে অনেক কথা বলে গেলেন। কথার ভাবে বুঝেছিলাম যে, দেশ তাঁকে সম্পূর্ণ চিনল না এই অভিমান তখনো তাঁর মনে রয়েছে। বলেছিলেন, "আমি যখন চলে যাব তখন বুঝবে দেশের জন্য কী করেছি।" খানিকক্ষণ নীরব হয়ে থেকে '   সার্থক জনম আমার ' গানটি প্রাণের আবেগে গেয়ে উঠলেন। বুঝলাম দেশ তাঁকে বুঝতে পারে নি এ অভিমান যতই থাকুক না কেন, দেশের প্রতি ভালোবাসা তাঁর কোনোদিন কমতে পারে না। (২৬৭)  
     --শান্তিদেব ঘোষ, রবীন্দ্রসংগীত, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, জ্যৈষ্ঠ ১৩৭৭  



১৯১৪ সালে রবীন্দ্রনাথ অনেক গান লেখেন (বেশীর ভাগই 'গীতালি'তে স্থান পেয়েছে)। ১৩২১ সালের ২০শে জ্যৈষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ লিখছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে:

"ভাই জ্যোতিদাদা,
    গান অনেক তৈরি হয়েচে। এখনো থামচে না-- প্রায় রোজই একটানা একটা চলছে। আমার মুস্কিল এই যে সুর দিয়ে আমি সুর ভুলে যাই। দিনু কাছে থাকলে তাঁকে শিখিয়ে দিয়ে বেশ নিশ্চিন্তমনে ভুলতে পারি। নিজে যদি স্বরলিপি করতে পারতুম কথাই ছিল না। দিনু মাঝে মাঝে করে কিন্তু আমার বিশ্বাস সেগুলো বিশুদ্ধ হয় না। সুরেন বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে আমার দেখাই হয় না-- কাজেই আমার খাতা এবং দিনুর পেটেই সব জমা হচ্চে। ... কলকাতায় গিয়ে এসব গান গাইতে গিয়ে দেখি কেমন ম্লান হয়ে যায়। তাই ভাবি, এগুলো হয়তো বিশেষ কারো কাজে লাগবে না।

          স্নেহের রবি"
    -- অসিতকুমার হালদারের 'রবিতীর্থ' থেকে উদ্ধৃত। (৫১)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  


 

 

৫৯১

আবার যদি ইচ্ছা কর আবার আসি ফিরে
   দুঃখসুখের-ঢেউ-খেলানো এই সাগরের তীরে॥
আবার জলে ভাসাই ভেলা,   ধুলার 'পরে করি খেলা গো,
             হাসির মায়ামৃগীর পিছে ভাসি নয়ননীরে॥
কাঁটার পথে আঁধার রাতে আবার যাত্রা করি,
   আঘাত খেয়ে বাঁচি নাহয় আঘাত খেয়ে মরি।
আবার তুমি ছদ্মবেশে   আমার সাথে খেলাও হেসে গো,
             নূতন প্রেমে ভলোবাসি আবার ধরণীরে॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

I F you so wish, I may again set my course
   to this side of the ocean where
  joy and sorrow alternate like waves.
Once again, I may set my raft adrift,
I may resume my play in the dust
  of the roadside, and go chasing
  after the chimera of happiness--
  even if I have to weep and be sad.
Again I may set out on the thorny road,
  ready to receive hurt,
  ready for life and ready for death.
Once again, you will come and be
  my playmate-- though in a new form.
Through loving you, I shall learn to love
  this old world once again.
  
     --Anon., Anthology  



১৯১৪ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  'বলাকা' রচনা। 'বিচিত্রা সভা' প্রতিষ্ঠা। 'অচলায়তন' অভিনয়, গুরুর ভূমিকায় কবি। সপরিবারে রামগড়ে সময় কাটালেন কিছুদিন। প্রকাশ: উৎসর্গ, স্মরণ, গীতিমাল্য, গান, ধর্মসঙ্গীত, গীতালি, The King of the Dark Chamber, One Hundred Poems of Kabir, The Post Office.  

বহির্বিশ্বে: আমেরিকার সান্‌ ফ্রান্‌সিস্কো শহরে স্থাপিত গদর সমিতির এক অভিযান ও সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে ১৭ জনের মৃত্যু। কলকাতায় অস্ত্রব্যবসায়ী রডা কোম্পানী লুট করে বিপ্লবীরা অনেক অস্ত্র সংগ্রহ করেন। ভারত ও চীনের সীমান্ত নির্দেশক ম্যাকমোহন লাইন প্রস্তাবিত। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ইণ্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের সূচনা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় মাসিক 'সবুজপত্র'-এর প্রকাশ। পানামা ক্যানাল খুললো। ৪ঠা অগাস্ট ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো -- প্রথম মহাযুদ্ধের শুরু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: গ্রোথ অফ দি সয়েল (হামসুন), ডাবলিনার্স (জয়েস), দি কাপ অফ লাইফ (বুনিন)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮