গীতবিতান-GITABITAN
মেঘ বলেছে 'যাব যাব', রাত বলেছে 'যাই'

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১৭ আশ্বিন ১৩২১ (৪ অক্টোবর,১৯১৪)
কবির বয়স: ৫৩
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
প্রকাশ: ১৯১৪ , গীতালি ৬৫ র-র ১১ |
প্রবাসী;তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা (১৩২২)।
Fruit Gathering 54
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-শেষ; ৫৯৩/২৩৩
রাগ / তাল: বেহাগ / তেওরা
স্বরলিপি: আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা (১৩২৩); স্বরবিতান ৪৩
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী; ঐ
পাদটিকা:
১৩২২ সালের মাঘোৎসবে গীত।  

আলোচনা

বেহাগ। রবীন্দ্রনাথ বেহাগের সুরে যত সুন্দর-সুন্দর সুরনির্মাণ করেছেন, আর কোনো রাগ সম্ভবত তার পাশে দাঁড়াতে পারে না। সংখ্যায় না হলেও গুণে বুঝি বেহাগই কবির প্রিয়তম, আমাদের কাছে বেহাগই বুঝি সবচেয়ে বেশি নম্বর পাবে। গানের তালিকায় না গিয়ে আমরা বরং বেহাগের রাবীন্দ্রিকতার খোঁজেই যাই। রবীন্দ্র-বেহাগে খাম্বাজ প্রায়ই চুপিসাড়ে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আর ধরাই যায় না, কিন্তু বেহাগত্ব থাকে অক্ষুণ্ণ। এটা বাংলা বেহাগেরই একটা চরিত্র। শুধু একটিমাত্র স্বরের স্থান পরিবর্তনে এটি ঘটে যায় -- অবরোহতে প্রধানত শুদ্ধ নিষাদের স্থানে কোমল নিষাদ, এতে সুরের আবেদনে মরমিত্বের মাত্রা এসে যায়। রবীন্দ্রনাথের বেহাগের পর বেহাগে এই ব্যাপারটা ঘটে থাকে। এই কোমল নিষাদ হাজির হয় গানের অন্তরা বা সঞ্চারীতে। ...  অনেকে এই সুরকারুটিকে বিহাগড়া বলতে পারেন।  
     --সুধীর চন্দ, বহুরূপী রবীন্দ্রনাথ, প্যাপিরাস, ২০০৫  



১৯১৪ সালে রবীন্দ্রনাথ অনেক গান লেখেন (বেশীর ভাগই 'গীতালি'তে স্থান পেয়েছে)। ১৩২১ সালের ২০শে জ্যৈষ্ঠ রবীন্দ্রনাথ লিখছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে:

"ভাই জ্যোতিদাদা,
    গান অনেক তৈরি হয়েচে। এখনো থামচে না-- প্রায় রোজই একটানা একটা চলছে। আমার মুস্কিল এই যে সুর দিয়ে আমি সুর ভুলে যাই। দিনু কাছে থাকলে তাঁকে শিখিয়ে দিয়ে বেশ নিশ্চিন্তমনে ভুলতে পারি। নিজে যদি স্বরলিপি করতে পারতুম কথাই ছিল না। দিনু মাঝে মাঝে করে কিন্তু আমার বিশ্বাস সেগুলো বিশুদ্ধ হয় না। সুরেন বাঁড়ুজ্জের সঙ্গে আমার দেখাই হয় না-- কাজেই আমার খাতা এবং দিনুর পেটেই সব জমা হচ্চে। ... কলকাতায় গিয়ে এসব গান গাইতে গিয়ে দেখি কেমন ম্লান হয়ে যায়। তাই ভাবি, এগুলো হয়তো বিশেষ কারো কাজে লাগবে না।

          স্নেহের রবি"
    -- অসিতকুমার হালদারের 'রবিতীর্থ' থেকে উদ্ধৃত। (৫১)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  


 

 

৫৯৩

       মেঘ বলেছে 'যাব যাব', রাত বলেছে 'যাই',
           সাগর বলে 'কূল মিলেছে-- আমি তো আর নাই'॥
             দুঃখ বলে 'রইনু চুপে   তাঁহার পায়ের চিহ্নরূপে',
               আমি বলে 'মিলাই আমি আর কিছু না চাই'॥
ভুবন বলে 'তোমার তরে আছে বরণমালা',
     গগন বলে 'তোমার তরে লক্ষ প্রদীপ জ্বালা'।
       প্রেম বলে যে 'যুগে যুগে   তোমার লাগি আছি জেগে।'
         মরণ বলে 'আমি তোমার জীবনতরী বাই'॥

Group

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

LIV

T he Cloud said to me, "I vanish"; the Night said, "I plunge into the fiery dawn."
    The Pain said, "I remain in deep silence as his footprint."
    "I die into the fulness," said my life to me.
    The Earth said, "My lights kiss your thoughts every moment."
    "The days pass," Love said, "but I wait for you."
    Death said, "I ply the boat of your life across the sea."

  

Front Page
   These translations are of poems contained in three books -- Naivedya, Kheya, and Gitanjali... ; and of a few poems which have appeared only in periodicals.
  
     --Sir  Rabindranath Tagore, Fruit-Gathering, Macmillan, New York, 1916.  



১৯১৪ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  'বলাকা' রচনা। 'বিচিত্রা সভা' প্রতিষ্ঠা। 'অচলায়তন' অভিনয়, গুরুর ভূমিকায় কবি। সপরিবারে রামগড়ে সময় কাটালেন কিছুদিন। প্রকাশ: উৎসর্গ, স্মরণ, গীতিমাল্য, গান, ধর্মসঙ্গীত, গীতালি, The King of the Dark Chamber, One Hundred Poems of Kabir, The Post Office.  

বহির্বিশ্বে: আমেরিকার সান্‌ ফ্রান্‌সিস্কো শহরে স্থাপিত গদর সমিতির এক অভিযান ও সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে ১৭ জনের মৃত্যু। কলকাতায় অস্ত্রব্যবসায়ী রডা কোম্পানী লুট করে বিপ্লবীরা অনেক অস্ত্র সংগ্রহ করেন। ভারত ও চীনের সীমান্ত নির্দেশক ম্যাকমোহন লাইন প্রস্তাবিত। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ইণ্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের সূচনা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় মাসিক 'সবুজপত্র'-এর প্রকাশ। পানামা ক্যানাল খুললো। ৪ঠা অগাস্ট ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো -- প্রথম মহাযুদ্ধের শুরু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: গ্রোথ অফ দি সয়েল (হামসুন), ডাবলিনার্স (জয়েস), দি কাপ অফ লাইফ (বুনিন)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


আগে বেহাগে কোমল 'নি' ব্যবহার করা হত আরোহণ ও অবরোহণে, হালে হচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথ বেহাগ সুরে বাঁধা তাঁর অনেক গানেই কোমল 'নি' ব্যবহার করেছেন। যেমন প্রথম বয়সের রচনা ' ওগো শোনো কে বাজায় ' গানটিতে। আবার শুদ্ধ নিখাদ দিয়ে তৈরি করেছেন অনেক গান, যেমন ' মেঘ বলেছে যাবো যাবো ', ' আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে ' প্রভৃতি গান। বেহাগের প্রচলিত স্বরবিন্যাস হচ্ছে পা হ্মা গা মা গা কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বেহাগ সুরের গানে এটি একেবারে পাওয়া যায় না। অনেক গানে কড়িমধ্যম সম্পূর্ণ বর্জিত, যেমন ' স্বামী তুমি এসো আজ ' গানটিতে। কোনো কোনো গানে কড়িমধ্যম নেই কিন্তু শুদ্ধ 'নি'-র সঙ্গে কোমল 'নি'র ব্যবহার আছে। বেহাগ সুরের কিছু গানে রবীন্দ্রনাথ বেহাগ সুরের সঙ্গে খাম্বাজ মিশিয়েছেন, যেমন, ' [আজি তোমায়] আবার চাই শুনাবারে ' গানটিতে। (৪৭)  
     --সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথের গান, বৈতানিক প্রকাশনী, ১৩৯৬