গীতবিতান-GITABITAN
এসো হে গৃহদেবতা

Portrait

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১৩০০ ( ১৮৯৪)
কবির বয়স: ৩২
প্রকাশ: ফাল্গুন, ১৩০০ , তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা |
কাব্যগ্রন্থাবলী
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): আনুষ্ঠানিক-আনুষ্ঠানিক; ১৪/৬১২
রাগ / তাল: আনন্দ-ভৈরবী / কাহারবা
স্বরলিপি: ব্রহ্মসঙ্গীত ১; স্বরবিতান ২৭
স্বরলিপিকার: কাঙালীচরণ সেন; ঐ
পাদটিকা:
হিন্দি-ভাঙা গান (খেয়াল), প্রাপ্তিস্থান- সরলা দেবী, ইন্দিরা দেবী শুধু গানটির উল্লেখ করেছেন, আর কোনো তথ্য দেন নি। তাল কাওয়ালি [ ব্র-স্ব ]। প্রচলিত ও [ব্র-স্ব]-এর মধ্যে সুরভেদ আছে।
পাঠভেদ:
সব বৈরী হবে দূর  --[ গীবিন ] ১ম সং (১৩৩৮)।  
[ র-ভা ]  

আলোচনা

মহীশূরে যখন গেলুম সেখান থেকে এক অভিনব ফুলের সাজি ভরে আনলুম। রবিমামার পায়ের তলায় সে গানের সাজিখানি খালি না করা পর্যন্ত মনে বিরাম নেই। সাজি থেকে এক একখানি সুর তুলে নিলেন তিনি, সেগুলিকে মুগ্ধচিত্তে নিজের কথা দিয়ে নিজের করে নিলেন -- তবে আমার পূর্ণ চরিতার্থতা হল। ' আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে ', '   এসো হে গৃহদেবতা ', '   এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ ', ' চিরবন্ধু চিরনির্ভর ' প্রভৃতি আমার আনা সুরে বসানো গান।
আমার সব সঙ্গীতসঞ্চয়ের মূলে তাঁকে নিবেদনের আগ্রহ লুকিয়ে বাস করত। দিতে তাকেই চায় প্রাণ, যে নিতে জানে। বাড়ির মধ্যে শ্রেষ্ঠ গ্রহীতা ছিলেন রবিমামা, তাই আমার দাত্রীত্ব পুঞ্জীভূত হয়ে উঠেছিল তাঁতে। (৩৩)  
     --সরলা দেবী, জীবনের ঝরাপাতা  



মহীশূরে পদার্পণ করে দেখলুম যে একেবারে সঙ্গীতের রাজ্যে প্রবেশ করেছি। দেওয়ানের পৌত্রীর তরঙ্গায়িত কণ্ঠে ত্যাগরাজ নামে প্রসিদ্ধ তেলেগু কবির রচিত অনেকগুলি ওদেশী ক্লাসিকাল গান শুনে মুগ্ধ হলুম এবং মেয়েটিকে বাড়িতে আনিয়ে তার কাছ থেকে সেগুলি আদায় করলুম। দেশে ফিরে রবিমামাকে উপঢৌকন দিলুম। তিনি তাদের ভেঙে ভেঙে ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করলেন -- বাঙলার সুররাজ্য বিস্তৃত হল।  
     --সরলা দেবী, জীবনের ঝরাপাতা  


ভৈরবী সুরের মোচড়গুলো কানে এলে জগতের প্রতি এক রকম বিচিত্র ভাবের উদয় হয়... মনে হয় একটা নিয়মের হস্ত অবিশ্রাম আর্গিন যন্ত্রের হাতা ঘোরাচ্ছে এবং সেই ঘর্ষণবেদনায় সমস্ত বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মর্মস্থল হতে একটা গম্ভীর কাতর করুণ রাগিণী উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠছে-- সকাল বেলাকার সূর্যের সমস্ত আলো ম্লান হয়ে এসেছে, গাছপালারা নিস্তব্ধ হয়ে কী যেন শুনছে এবং আকাশ একটা বিশ্বব্যাপী অশ্রুর বাষ্পে যেন আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে-- অর্থাৎ, দূর আকাশের দিকে চাইলে মনে হয় যেন একটা অনিমেষ নীল চোখ কেবল ছল্‌ছল্‌ করে চেয়ে আছে।
    কলকাতা, জুন ১৮৮৯  #৩  

অ[বন?] ও বাড়িতে তাদের এক তলার ঘরে বসে এস্‌রাজে ভৈরবী আলাপ করছে, আমি তেতলার কোণের ঘরে বসে স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি। তোর চিঠিতেও তুই মাটাঙ্গের ভৈরবী আলাপের কথা লিখেছিস। আজকাল সকালে দেখতে দেখতে বেলা দশটা এগারোটা দুপুর হয়ে যায়-- দিনটা যতই উত্তপ্ত হয়ে উঠতে থাকে মনটাও ততই এক রকম উদাসীন হয়ে আসে; তার উপর কানে যখন বারম্বার ভৈরবীর অত্যন্ত করুণ মিনতির খোঁচ লাগতে থাকে তখন আকাশের মধ্যে, রৌদ্রের মধ্যে, একটা প্রকাণ্ড বৈরাগ্য ব্যাপ্ত হয়ে যায়। কর্মক্লিষ্ট সন্দেহপীড়িত বিয়োগশোককাতর সংসারের ভিতরকার যে চিরস্থায়ী সুগভীর দুঃখটি, ভৈরবী রাগিণীতে সেইটিকে একেবারে বিগলিত করে বের করে নিয়ে আসে। মানুষে মানুষে সম্পর্কের মধ্যে যে-একটি নিত্যশোক নিত্যভয় নিত্যমিনতির ভাব আছে, আমাদের হৃদয় উদ্‌ঘাটন করে ভৈরবী সেই কান্নাকাটি মুক্ত করে দেয়-- আমাদের বেদনার সঙ্গে জগদ্‌ব্যাপী বেদনার সম্পর্ক স্থাপন করে দেয়। সত্যিই তো আমাদের কিছুই স্থায়ী নয়, কিন্তু প্রকৃতি কী এক অদ্ভুত মন্ত্রবলে সেই কথাটিই আমাদের সর্বদা ভুলিয়ে রেখেছে-সেইজন্যেই আমরা উৎসাহের সহিত সংসারের কাজ করতে পারি। ভৈরবীতে সেই চিরসত্য সেই মৃত্যুবেদনা প্রকাশ হয়ে পড়ে; আমাদের এই কথা বলে দেয় যে, আমরা যা-কিছু জানি তার কিছুই থাকবে না এবং যা চিরকাল থাকবে তার আমরা কিছুই জানি নে।
  --কলকাতা, ২১ নভেম্বর ১৮৯৪; ৬.৮.১৩০১ #১৭৭  

[কিন্তু] আজ সকালে একটা সানাইয়েতে ভৈরবী বাজাচ্ছিল, এমনি অতিরিক্ত মিষ্টি লাগছিল যে সে আর কী বলব-- আমার চোখের সামনেকার শূন্য আকাশ এবং বাতাস পর্যন্ত একটা অন্তর্‌নিরুদ্ধ ক্রন্দনের আবেগে যেন স্ফীত হয়ে উঠছিল-- বড়ো কাতর কিন্তু বড়ো সুন্দর-- সেই সুরটাই গলায় কেন যে তেমন করে আসে না বুঝতে পারি নে। মানুষের গলার চেয়ে কাঁসার নলের ভিতরে কেন এত বেশি ভাব প্রকাশ করে! এখন আবার তারা মুলতান বাজাচ্ছে-- মনটা বড়োই উদাস করে দিয়েছে-- পৃথিবীর এই সমস্ত সবুজ দৃশ্যের উপরে একটি অশ্রুবাষ্পের আবরণ টেনে দিয়েছে-- একপর্দা মুলতান রাগিণীর ভিতর দিয়ে সমস্ত জগৎ দেখা যাচ্ছে। যদি সব সময়েই এইরকম এক-একটা রাগিণীর ভিতর দিয়ে জগৎ দেখা যেত তা হলে বেশ হত। আমার আজকাল ভারী গান শিখতে ইচ্ছে করে-- বেশ অনেকগুলো ভূপালী ... এবং করুণ বর্ষার সুর-- অনেক বেশ ভালো ভালো হিন্দুস্থানী গান-- গান প্রায় কিচ্ছুই জানি নে বললেই হয়।
    সাজাদপুর, ৫ জুলাই ১৮৯২; ২২.৩.১২৯৯ #৬৬  
     --রবীন্দ্রনাথ, ছিন্নপত্রাবলী,  বিশ্বভারতী, ১৩১৯  


আমাদের মতে রাগ-রাগিণী বিশ্বসৃষ্টির মধ্যে নিত্য আছে। সেইজন্য আমাদের কালোয়াতি গানটা ঠিক যেন মানুষের গান নয়, তাহা যেন সমস্ত জগতের। ভৈঁরো যেন ভোরবেলার আকাশেরই প্রথম জাগরণ; পরজ যেন অবসন্ন রাত্রিশেষের নিদ্রাবিহ্বলতা; কানাড়া যেন ঘনান্ধকারে অভিসারিকা নিশীথিনীর পথবিস্মৃতি; ভৈরবী যেন সঙ্গবিহীন অসীমের চিরবিরহবেদনা; মূলতান যেন রৌদ্রতপ্ত দিনান্তের ক্লান্তিনিশ্বাস; পূরবী যেন শূন্যগৃহচারিণী বিধবা সন্ধ্যার অশ্রুমোচন।  
     --রবীন্দ্রনাথ, সঙ্গীতের মুক্তি, সবুজ পত্র, ভাদ্র ১৩২৪; ছন্দ, প্রথম সংস্করণ; কলিকাতায় রামমোহন লাইব্রেরিতে রবীন্দ্রনাথ কর্তৃক পঠিত, 'বিচিত্রা' সভায়ও বোধহয় তিনি প্রবন্ধটি পাঠ করেন।  


 

 

১৪

         এসো হে গৃহদেবতা,
এ ভবন পুণ্যপ্রভাবে করো পবিত্র॥
বিরাজো জননী, সবার জীবন ভরি--
দেখাও আদর্শ মহান চরিত্র॥
         শিখাও করিতে ক্ষমা, করো হে ক্ষমা,
         জাগায়ে রাখো মনে তব উপমা,
         দেহো ধৈর্য হৃদয়ে--
         সুখে দুখে সঙ্কটে অটল চিত্ত॥
দেখাও রজনী-দিবা বিমল বিভা,
বিতরো পুরজনে শুভ্র প্রতিভা--
নব শোভাকিরণে
করো গৃহ সুন্দর রম্য বিচিত্র॥
         সবে করো প্রেমদান, পূরিয়া প্রাণ--
         ভুলায়ে রাখো, সখা, আত্মাভিমান।
         সব বৈর হবে দূর
         তোমারে বরণ করি জীবনমিত্র॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

16

O MAN divine, sanctify our efforts
with the light of thy sacred touch.
Dwell in our hearts,
hold before us the image of thy greatness.
Forgive our transgression,
teach us to forgive.

Guide us into serene fortitude
through all joys and sorrows,
inspire us with love
overcoming pride of self,
and let our devotion for thee
banish all enmity.
  

Poems: a collection of one hundred and thirty poems, all but fifteen of which have been translated by the Poet himself. Edited by Krishna Kripalani, Amiya Chakrabarty and others.  
     --Rabindranath Tagore, Poems, Visva-Bharati, 1942  



১৮৯৪ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ: ১৩ই জানুয়ারি কনিষ্ঠা কন্যা মীরা দেবীর জন্ম। জমিদারির কাজে রাজশাহী গিয়ে লিখলেন 'এবার ফিরাও মোরে'। ৮ই এপ্রিল বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যু। ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মাণিক্যের আমন্ত্রণে কার্সিয়াং। ২রা সেপ্টেম্বর রানাঘাটে নবীনচন্দ্র সেনের সঙ্গে দেখা। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রতিষ্ঠিত হোলো, সহ-সভাপতিত্বের ভার নিলেন। 'সাধনা' পত্রিকার ভার নিলেন সুধীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছ থেকে। একবছর পর পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। চৈতন্য লাইব্রেরিতে 'ছেলেভুলানো ছড়া' প্রবন্ধ পাঠ -- লোকগাথা ও ছেলেভুলানো ছড়া সংগ্রহ আরম্ভ। প্রকাশ: সোনার তরী, ছোটগল্প, বিচিত্র গল্প (১,২), কথাচতুষ্টয়, বিদায় অভিশাপ (২য় সংস্করণ চিত্রাঙ্গদার সঙ্গে)।

বহির্বিশ্বে: ৮ই এপ্রিল বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যু। গান্ধীজীর নাটাল কংগ্রেস স্থাপিত। জাপান ও কোরিয়া একত্র হয়ে চীন আক্রমণ করে তাদের পরাজিত করে। ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত ইহুদি ড্রেফাসের নির্বাসন। স্বেন হেডিনের তিব্বতভ্রমণ। লুই লুমিয়ের চলচ্চিত্র প্রদর্শন যন্ত্র সিনেমাটোগ্রাফ উদ্ভাবন করেন। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য ও শিল্পকর্ম: দি স্টোরি অফ গোস্তা বের্লিং (ল্যাগেরলফ), স্যালোমি (ওয়াইল্ড), ল্যাণ্ড অফ হার্ট্‌স্‌ ডিজায়ার ( ইয়েট্‌স্‌), প্রিজনার অফ জেণ্ডা (হোপ), ফাম আ ল টয়লেট (দ্যেগা)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


[মাঘোৎসবের গানের প্রসঙ্গে] বৈষ্ণব ভক্তদের কীর্তন ভাবেতে মজে দশাপ্রাপ্ত হয়ে ধূলায় অবলুণ্ঠন প্রধান, আর ১১ই মাঘের সঙ্গীত ভাবেতে উড্ডীন হয়ে মর্ত হতে স্বর্গে আরোহণ প্রধান। বিশেষত রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর ভ্রাতাদেরসহ ১১ই মাঘের সঙ্গীতের আসরে নামলেন তখন ব্রহ্মের উপাসনায় হৃদয়ের কোণে কোণে যেখানে যত নদী খাল বিল শুকনো ছিল সব ভরে উঠল। আর "মনে কর শেষের সেদিন কি ভয়ঙ্কর" নয়, শুধু "তুমি অগম্য অপার" ইত্যাদি বর্ণনামূলক নির্গুণ ব্রহ্মের স্তুতি নয়। এখন হল সমস্ত বাহ্য বা অন্তর-প্রকৃতিতে প্রতিভাত সগুণ ঈশ্বরের আবাহন। বৈষ্ণবদের লক্ষ্মী বিষ্ণু বা শাক্তদের শিব কালীর স্থলে খ্রিস্টানদের Personal God-এর অবতারণা--

     বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে
    আজ আনন্দে প্রেমচন্দ্রে নেহারো [?]
হল--
     তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না
হল--
     অনেক দিয়েছ নাথ

Personal God-এর অনুভূতি নিরাকারত্বে হয় না। যিনি চক্ষুষঃ চক্ষুঃ শ্রোত্রস্য শ্রোত্রং তাঁকে চক্ষুকর্ণবান চরণহস্তবান বলে কল্পনায় না আনলে অন্তরে তাঁকে অঙ্গবান করে না দেখলে তাঁকে পাওয়াই হয় না। তাই রামমোহন যুগের পরবর্তী ব্রহ্মোৎসবের রবীন্দ্রের ব্রহ্ম বা ঈশ্বর 'অপাণিপাদ' নন, তিনি 'সর্বতো অক্ষি' 'সর্বত্র শিরোমুখ'। তাই তাঁর পরিচালিত ১১ই মাঘে পরপর গাওয়া হয়েছে--
     বড় আশা করে এসেছি গো ;   আজি শুভদিনে পিতার ভবনে ;   সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে ;   হেরি তব বিমল মুখভাতি ;   এস হে গৃহদেবতা ; তব প্রেম-আঁখি সতত জাগে [তোমারি ইচ্ছা হউক পূর্ণ]     
হল--
     এ কি অন্ধকার ভারতভূমি

...ভাবের ও ভাষার পার্থক্য দেখলে চিনতে পারা যাবে রামমোহন রায়ের সময়কার নিরাকার ব্রহ্ম কেমন করে ভাবের ঘরে একদম সাকার হয়ে নেমে ব্রহ্মবাদীদের আকার-নিরাকার অভেদ জ্ঞানের ভিত্তিই পুনঃস্থাপিত করলেন। অথচ ভাবের ছবির চৌকাঠ পেরিয়ে গেলেই-- মাটি-খড়ে, ধাতু-প্রস্তরে, বর্ণে-চিত্রে ভাবের উপলক্ষ্য ভগবানকে পূর্ণ লক্ষ্য করে মূর্ত করে আঁকড়ে ধরলেই রবীন্দ্রনাথ উত্যক্ত বিচলিত হয়ে উঠতেন। তাঁর আজন্ম 'নিরাকার' পূজার সংস্কারে ঘা লাগত।  (৬৭)  
     --সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা, রূপা, কলকাতা, ১৯৮২