গীতবিতান-GITABITAN
বড়ো আশা ক'রে এসেছি গো, কাছে ডেকে লও

Signature

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১২৮৯ ( ১৮৮২)
কবির বয়স: ২১
প্রকাশ: ফাল্গুন, ১২৮৯ , তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা |
রবিচ্ছায়া(ব্রহ্ম)
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা ও প্রার্থনা-রবিচ্ছায়া; ১০/৮৩১
রাগ / তাল: ঝিঁঝিট / ত্রিতাল
স্বরলিপি: সাধনা (১৩০১); স্বরবিতান ৮
স্বরলিপিকার: অনুল্লিখিত; ঐ
পাদটিকা:
দক্ষিণী-ভাঙা গান, 'সখি বা বা মারণ'-কানাড়ী, প্রাপ্তিস্থান-ইন্দিরা দেবী। মাঘোৎসবে গীত।  

আলোচনা

আদর্শ গান:

সখি বা বা মারণ কিড়ি বেড়
      বড় গিরিয়ে
মদন মনোহরণ।
মোহিনী কালাহি বেণী
    পূর্ণেন্দু সমান
নে কমলাক্ষি বা।
বা বুনুতে কডু সুমতে  
কনক লতে সুখ বিনুতে  



[মাঘোৎসবের গানের প্রসঙ্গে] বৈষ্ণব ভক্তদের কীর্তন ভাবেতে মজে দশাপ্রাপ্ত হয়ে ধূলায় অবলুণ্ঠন প্রধান, আর ১১ই মাঘের সঙ্গীত ভাবেতে উড্ডীন হয়ে মর্ত হতে স্বর্গে আরোহণ প্রধান। বিশেষত রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর ভ্রাতাদেরসহ ১১ই মাঘের সঙ্গীতের আসরে নামলেন তখন ব্রহ্মের উপাসনায় হৃদয়ের কোণে কোণে যেখানে যত নদী খাল বিল শুকনো ছিল সব ভরে উঠল। আর "মনে কর শেষের সেদিন কি ভয়ঙ্কর" নয়, শুধু "তুমি অগম্য অপার" ইত্যাদি বর্ণনামূলক নির্গুণ ব্রহ্মের স্তুতি নয়। এখন হল সমস্ত বাহ্য বা অন্তর-প্রকৃতিতে প্রতিভাত সগুণ ঈশ্বরের আবাহন। বৈষ্ণবদের লক্ষ্মী বিষ্ণু বা শাক্তদের শিব কালীর স্থলে খ্রিস্টানদের Personal God-এর অবতারণা--

     বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে
    আজ আনন্দে প্রেমচন্দ্রে নেহারো [?]
হল--
     তোমার কথা হেথা কেহ তো বলে না
হল--
     অনেক দিয়েছ নাথ

Personal God-এর অনুভূতি নিরাকারত্বে হয় না। যিনি চক্ষুষঃ চক্ষুঃ শ্রোত্রস্য শ্রোত্রং তাঁকে চক্ষুকর্ণবান চরণহস্তবান বলে কল্পনায় না আনলে অন্তরে তাঁকে অঙ্গবান করে না দেখলে তাঁকে পাওয়াই হয় না। তাই রামমোহন যুগের পরবর্তী ব্রহ্মোৎসবের রবীন্দ্রের ব্রহ্ম বা ঈশ্বর 'অপাণিপাদ' নন, তিনি 'সর্বতো অক্ষি' 'সর্বত্র শিরোমুখ'। তাই তাঁর পরিচালিত ১১ই মাঘে পরপর গাওয়া হয়েছে--
     বড় আশা করে এসেছি গো ;   আজি শুভদিনে পিতার ভবনে ;   সকাতরে ওই কাঁদিছে সকলে ;   হেরি তব বিমল মুখভাতি ;   এস হে গৃহদেবতা ; তব প্রেম-আঁখি সতত জাগে [তোমারি ইচ্ছা হউক পূর্ণ]     
হল--
     এ কি অন্ধকার ভারতভূমি

...ভাবের ও ভাষার পার্থক্য দেখলে চিনতে পারা যাবে রামমোহন রায়ের সময়কার নিরাকার ব্রহ্ম কেমন করে ভাবের ঘরে একদম সাকার হয়ে নেমে ব্রহ্মবাদীদের আকার-নিরাকার অভেদ জ্ঞানের ভিত্তিই পুনঃস্থাপিত করলেন। অথচ ভাবের ছবির চৌকাঠ পেরিয়ে গেলেই-- মাটি-খড়ে, ধাতু-প্রস্তরে, বর্ণে-চিত্রে ভাবের উপলক্ষ্য ভগবানকে পূর্ণ লক্ষ্য করে মূর্ত করে আঁকড়ে ধরলেই রবীন্দ্রনাথ উত্যক্ত বিচলিত হয়ে উঠতেন। তাঁর আজন্ম 'নিরাকার' পূজার সংস্কারে ঘা লাগত।  (৬৭)  
     --সরলা দেবী চৌধুরানী, জীবনের ঝরাপাতা, রূপা, কলকাতা, ১৯৮২  


রবীন্দ্রনাথ বরাবরই তাঁর গানের সুরে কর্ড প্রয়োগ এবং হার্মোনাইজেশনের কাজে উৎসাহ দিতেন। এই সব উদ্যমের পাকা দলিল এখন অবশ্য খুব বেশি পাওয়া যায় না। ১৮৮৪তে সরলা দেবী " সকাতরে ওই কাঁদিছে " গানে কর্ড প্রয়োগের যে চেষ্টা করেন, রবীন্দ্রসংগীতকে হার্মনাইজ করবার সেটা সম্ভবত সর্বপ্রথম নিদর্শন [গানের তথ্য পশ্য]। আর একটি উল্লেখযোগ্য নিদর্শন আছে ১৩০১ সালের জ্যৈষ্ঠ মাসের 'সাধনা' পত্রিকায়। এটি পূর্বোক্ত দৃষ্টান্তের মতন অপরিণত হাতের কাজ নয়। ঠাকুরবাড়ির পাশ্চাত্য সংগীতশিক্ষক সিঁয়োর মন্‌জাতো 'মায়ার খেলার'র অন্তর্গত " পথহারা তুমি পথিক যেন গো " গানটির স্বরসন্ধি রচনা করেন। সাধনা পত্রিকায় তার পূর্ণাঙ্গ স্বরলিপি প্রকাশিত হয়েছে এবং ভূমিকায় বলা হয়েছে:

    "কেহ কেহ আপত্তি করেন, মিশ্রমিল আমাদের সংগীতের অনুপযোগী, উহার দ্বারা আমাদের রাগরাগিণীর রূপ রক্ষা করা কঠিন। অলংকারের অতিপ্রাচুর্যে রূপের স্ফূর্তিহানি হয় বটে কিন্তু যথাযোগ্য্রূপে স্বল্প অলংকার প্রয়োগ করিলে কি তাদের রূপ আরও ফুটিয়া উঠে না?"

১৯২১-২২ সালের আনন্দসঙ্গীত পত্রিকায় এই জাতেয় কয়েকটি প্রয়াসের নিদর্শন পাওয়া যায় [বন্ধনীতে স্বরলিপিকার]: " আমি চিনি গো চিনি " (ইন্দিরা দেবী); "সংগচ্ছধ্বং সংবদধ্বং" (সরলা দেবী) [অন্যান্য তথ্য বিভাগে 'মন্ত্রগান' পৃষ্ঠা পশ্য]; " বড়ো আশা করে " (অশোকা দেবী), " তোমারি গেহে পালিছ স্নেহে "-- প্রভৃতি মুদ্রিত ও প্রকাশিত স্বরলিপিগুলিতে নিঃসন্দেহে এ বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের কৌতূহল এবং সমর্থনের দ্যোতনা পাওয়া যায়। (৩৭)  
     --ভাস্কর মিত্র, রবীন্দ্রনাথ ও পাশ্চাত্য সংগীত, রবীন্দ্রসংগীতায়ন ২, সুচিত্রা মিত্র ও সুভাষ চৌধুরী সম্পাদিত, প্যাপিরাস ১৯৯০  


আমার অনেকদিন থেকেই ইচ্ছে ছিল রবীন্দ্রনাথ গানের ক্ষেত্রেও কিরকম পরকে আপন করে নিতে পেরেছেন -- চলিত কথায় যাকে আমরা তাঁর গান ভাঙা বলি -- তার পরিধি কত বিস্তৃত, এবং তাতেও কিরকম অপরূপ কারিগরি দেখিয়েছেন, তার একটি স-দৃষ্টান্ত আলোচনা করি।

গান ভাঙা দুরকমে হতে পারে-- এক, পরের সুরে নিজের কথা বসানো। এ ক্ষেত্রে পরের সুরে নিজের কথা বসাবার দৃষ্টান্তই বেশি পাওয়া যায়। পরের কথায় সুর দেবার দৃষ্টান্ত অতি বিরল; যদিও একেবারে নেই, তা নয়। এই প্রথম শ্রেণীকে আমি সুবিধার্থে দুই ভাগে বিভক্ত করেছি: এক, অ-বাংলা ভাষার গান ভাঙা; দুই, বাংলা ভাষার গান ভাঙা।

আদিব্রাহ্মসমাজের ব্রহ্মসংগীতগুলির কথার সম্পদ বাদ দিয়ে শুধু সুরের দিক থেকে আলোচনা করলেও আমাদের হিন্দুসংগীতের একটি বিপুল রত্নভাণ্ডারের পরিচয় ও ইতিহাস পাওয়া যাবে। আজ যে ভাঙা গানের আলোচনা করতে প্রবৃত্ত হয়েছি, তারও অধিকাংশ এই ভাণ্ডারেই সঞ্চিত। কবি নিজে যেখানে ভালো সুরটি শুনেছেন, অথবা অন্য লোকে দেশ-বিদেশ থেকে যে-সব গান আহরণ করে তাঁকে এনে দিয়েছেন, তার প্রায় সবগুলিই তিনি পূজার বেদীতে নিবেদন করেছেন, এ বললে অত্যুক্তি হয় না। মাঘোৎসবে নতুন নতুন গান সরবরাহের তাগিদ তার অন্যতম কারণ হতে পারে।  
     --ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী, রবীন্দ্রসংগীতের ত্রিবেণীসংগম, বিশ্বভারতী গ্রন্থনবিভাগ, কলিকাতা, ১৩৯৮  


 

 

১০

         বড়ো আশা ক'রে এসেছি গো,   কাছে ডেকে লও,
                      ফিরায়ো  না  জননী॥
         দীনহীনে কেহ চাহে না,   তুমি তারে রাখিবে জানি গো।
         আর আমি-যে কিছু চাহি নে,   চরণতলে বসে থাকিব।
         আর আমি-যে কিছু চাহি নে,   জননী ব'লে শুধু ডাকিব।
তুমি না রাখিলে, গৃহ আর পাইব কোথা,   কেঁদে কেঁদে কোথা বেড়াব--
         ঐ-যে  হেরি  তমসঘনঘোরা  গহন  রজনী॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

১৮৮২ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ: ত্রিপুরাধীশ বীরচন্দ্র মাণিক্য 'ভগ্নহৃদয়' পাঠ করে প্রশস্তি পাঠালেন। রমেশচন্দ্র মজুমদারের কন্যার বিবাহসভায় বঙ্কিমচন্দ্র রবীন্দ্রনাথকে মালা পরিয়ে দেন -- 'সন্ধ্যাসংগীত'এর কবিকে। কলকাতার সদর স্ট্রীটের বাড়িতে 'নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ' রচনা। 'কালমৃগয়া' রচিত ও অভিনীত, অন্ধমুনির ভূমিকায়। ১৬ই ডিসেম্বর দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম। প্রকাশিত বই: সন্ধ্যাসংগীত, কালমৃগয়া

বহির্বিশ্বে: নন্দলাল বসুর জন্ম। লাহোরে হিন্দু মহাসভা স্থাপিত। বার্লিন ফিলহার্মনিক অর্কেস্ট্রার প্রতিষ্ঠা। হল্যাণ্ডে প্রথম জন্মনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য ও শিল্পকর্ম: আনন্দমঠ, অ্যান এনিমি অফ দি পিপ্‌ল্‌ (ইবসেন), দি প্রিন্স এ্যাণ্ড দি পপার (মার্ক টোয়েন), পার্সিফল (ভাগ্‌নারের অপেরা)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  



রবীন্দ্রনাথের দুশো একটি (কিছু অপ্রকাশিত)গান সঙ্কলন করে 'রবিচ্ছায়া' বইটি প্রকাশিত হয় দোসরা জুন ১৮৮৫ (২৯শে জ্যৈষ্ঠ। বইটির আখ্যাপত্র: 'রবিচ্ছায়া।/(সঙ্গীত)/শ্রীরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রণীত।/শ্রী যোগেন্দ্রনারায়ণ মিত্র কর্ত্তৃক/ প্রকাশিত।/ কলিকাতা।/৮৫ নং বেনেটোলা লেনে সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ যন্ত্রে/ শ্রী গিরিশচন্দ্র ঘোষ দ্বারা মুদ্রিত।/ বৈশাখ ১২৯২।

সঞ্জীবনী পত্রিকায় 'রবিচ্ছায়া'-র প্রথম বিজ্ঞাপনটি বেরোয় ২০শে বৈশাখ, ১২৯২: 'রবিচ্ছায়া। রবিচ্ছায়া।/ বাবু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গীত সমূহ একত্রে মুদ্রিত। মূল্য বারো আনা; ডাক মাশুল এক আনা। /  ইহাতে প্রণয় সঙ্গীত, স্বভাব সঙ্গীত, ধর্ম সঙ্গীত, জাতীয় সঙ্গীত প্রচুর পরিমাণে সন্নিবদ্ধ হইয়াছে। বর্তমান দুর্ভিক্ষ উপলক্ষে রবীবাবু [ যল্লিখিতং] যে শোক সঙ্গীত রচনা করিয়াছেন তাহাও ইহাতে সন্নিবিষ্ট হইয়াছে। অর্থাৎ তিনি বিগত চৈত্র মাসের শেষদিন পর্যন্ত যতগুলি সঙ্গীত রচনা করিয়াছেন তাহার প্রায় সকলগুলিই ইহাতে প্রকাশিত হইয়াছে। ইহার বহুসংখ্যক গান পূর্ব্বে কখনও প্রকাশিত হয় নাই। ...'

'রবিচ্ছায়া'র 'রচয়িতার নিবেদন'-এ রবীন্দ্রনাথ লিখছেন:

'অনেক কারণে গান ছাপা নিষ্ফল বোধ হয়। সুর সঙ্গে না থাকিলে গানের কথাগুলি নিতান্ত অসম্পূর্ণ। তা ছাড়া গানের কবিতা সকল সময়ে পাঠ্য হয় না, কারণ সুরে ও কথায় মিলিয়া তবে গানের কবিতা গঠিত হয়। এইজন্য সুর ছাড়া গান ছাপার অক্ষরে পড়িতে অনেকস্থলে অত্যন্ত খাপছাড়া ঠেকে। ...

'বর্তমান গ্রন্থে মুদ্রিত অধিকাংশ গান সাধারণের নিকট প্রকাশ করিতে আমার ইচ্ছা ছিল না। ইহাতে অনেক গানই বিস্মৃত বাল্যকালের মুহূর্ত-স্থায়ী সুখদুঃখের সহিত দুই দণ্ড খেলা করিয়া কে কোথায় ঝরিয়া পড়িয়াছিল -- সেই সকল শুষ্কপত্র চারিদিক হইতে জড় করিয়া বইয়ের পাতার মধ্যে তাহাদিগকে স্থায়ীভাবে রক্ষা করিলে গ্রন্থকার ছাড়া আর কাহারও তাহাতে কোন আনন্দ নাই। আমার এইরূপ মনের ভাব। এই জন্য এ গানগুলি আজ সাত আট বৎসর [অর্থাৎ ১২৮৪-৮৫ অবধি] ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত হইয়া পড়িয়া আছে, আমি ছাপাইতে চেষ্টা করি নাই। ...

প্রশান্তকুমার পাল জানাচ্ছেন: 'দুঃখের বিষয়, [রবিচ্ছায়া] গ্রন্থটি জনপ্রিয় হয়নি, ফলে অগ্রহায়ণ মাস (প্রকাশ জ্যৈষ্ঠ) থেকে এটিকে হ্রাসমূল্যে (আট আনায়) বিক্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়। ... তবে থিয়েটারি চটুল গানের পাশে 'রবিবাবুর গান' যথোপযুক্ত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত হতে অনেক সময় নিয়েছে, একথা মানতেই হবে।'  
     --প্রশান্ত কুমার পাল, রবিজীবনী, ১-৯ খণ্ড,  আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা, ১৯৮২ - ২০০৪  



আর্নল্ড বাকে রবীন্দ্রনাথের গান সম্বন্ধে লিখেছিলেন: "This music... does not bear harmonization [26 songs...]"। কিন্তু ঠাকুর পরিবার-ঘনিষ্ঠ সংগীতজ্ঞরাই সেই মত অগ্রাহ্য করেছিলেন। এঁদের বেশ কয়েকজনেরই এ-বিষয়ে বিষম আগ্রহ ছিল।  

১৩২১ মাঘ আনন্দসঙ্গীত পত্রিকায় অশোকা দেবীর করা "বড় আশা করে" গানটির চার-সুরী স্বরলিপি ছাপা হয়। চার ছত্রে চাররকমের সংগতিপূর্ণ স্বর সন্নিবেশ করে প্রথম চারটি লাইনে পরপর নির্দেশ লেখা ছিল: "১ম সেতার/ ২য় সেতার/ ১ম এস্রাজ/ ২য় এস্রাজ"। নীচে টীকা ছিল: "এই গানটি বিগত ২১শে জানুয়ারী সঙ্গীতসঙ্ঘের পুরস্কার বিতরণ উপল্ক্ষ্যে ছাত্রছাত্রীগণ কর্তৃক সেতারে ও এস্রাজে একত্র বাদিত হইয়াছিল"। (২২০)  
     --সন্‌জীদা খাতুন, "রবীন্দ্রসংগীতে স্বরলিপির কথা", রবীন্দ্রনাথের গান:সঙ্গ অনুষঙ্গ, প্যাপিরাস, ২০০১