গীতবিতান-GITABITAN
একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ৯ পৌষ, ১৩৪৬ (২৫ ডিসেম্বর, ১৯৩৯)
কবির বয়স: ৭৮
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন উদিচী
প্রকাশ: ১৩৪৬ , প্রবাসী-বড়োদিন |
Poems 107
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত-আনুষ্ঠানিক সঙ্গীত; ১১/৮৬৫
রাগ / তাল: মিশ্র ইমন / দাদরা
স্বরলিপি: স্বরবিতান ৫৫
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার
পাদটিকা:
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে, খ্রীষ্টদিবস উপলক্ষে রচিত ও গীত, খ্রীষ্ট-সম্বন্ধীয় একমাত্র গান। প্রসঙ্গত, শান্তিনিকেতনে এ্যাণ্ড্রুজ এই বড়োদিন উৎসবটিতে মন্দিরে পৌরোহিত্য করেন ও ভাষণ দেন, এটিই তাঁর শেষ ভাষণ [ গী-গ্র ]।  

আলোচনা

দুটি দিনের কথা আমার খুব মনে পড়ে। একটি গানের 'কথা' অবশ্য একটি কবিতা থেকে নেওয়া-- খৃষ্টের উপর পুনশ্চতে একটি কবিতা আছে 'মানবপুত্র'। বড় দিনের ঠিক আগের দিন, খুব সম্ভবত সেটা ১৯৪০ সাল-- আমাকে বিকেলবেলা বললেন, "খৃষ্টের উপর আমার একটা গদ্যকবিতা কোথায় আছে বার কর।" আমার মনে ছিল, আমি বের করে দিলুম। তখন বললেন, " এবার তুমি যাও আমি একটা গান তৈরী করব কালকের জন্য, খৃষ্ট জন্মদিনে এই গানটি হলে সাহেব খুশী হবেন।" সাহেব অর্থ সি এফ এন্‌ড্রুজ। তিনি তখন শান্তিনিকেতনে ছিলেন। সেই সময় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনঘোর বিভীষিকা এঁদের দুজনের মনকেই ভারাক্রান্ত করে রাখত।  ...  কারণ সে সময় প্রতি পক্ষই অপরের নিধন ও নিজের সাফল্যের জন্য ধর্ণা দিচ্ছে।... সন্ধ্যেবেলা গান [একদিন যারা মেরেছিল তাঁকে] তৈরী হয়ে গেছে, গুন্‌গুন্‌ করছেন। ডেকে পাঠালেন ইন্দুলেখা দেবীকে [ঘোষ], তিনি তখন শান্তিনিকেতনে একজন প্রসিদ্ধ সুগায়িকা-- বার বার করে গলায় তুলে নিলেন ইন্দুলেখা দেবী। কবি বললেন, "কাল থেকে এ গান তোমার সম্পত্তি, আমি আবার গাইতে গেলে তুমি ভুল ধরবে।"  
(১৯৯)
['দুটি দিনের' অন্য দিনের গানটি   'ওই মহামানব আসে ']  
     --মৈত্রেয়ী দেবী, রবীন্দ্রনাথ গৃহে ও বিশ্বে, প্রাইমা পাবলিকেশন্‌স, কলকাতা, ১৩৮৭  



এই ঘটনাটিই আরেকটু কথোপকথনের ভঙ্গীতে লিখেছেন:

এইবার ডিসেম্বরে খৃষ্টজন্মোৎসব হবে। এন্‌ড্রুজ সাহেব আসবেন। ... দুপুরবেলা আমাকে বললেন, আমার খৃষ্টের উপর একটা গদ্যকবিতা আছে না? না, তুমি তো আবার গদ্যকবিতা পড় না। আমি বললাম আচ্ছা বের করে দিচ্ছি। 'পুনশ্চ' থেকে 'মানবপুত্র' কবিতাটি বের করে দিলাম। কবি বললেন,  এবার তুমি পালাও আমি এটাতে সুর দেব। সন্ধ্যাবেলা এসে শুনি 'একদিন যারা' গানটি তৈরি হয়েছে। কবি বললেন, এটি খৃষ্টদিবসে গাওয়া হবে-- সাহেব খুশি হবে।

পরদিন সকালে ডাক পড়ল ইন্দুলেখা ঘোষের। তাঁর গলায় তুলে দিলেন গানটি-- তারপর বললেন, এই যে দেখছ-- মেয়ে আমার কাছ থেকে গান শিখলে, এর পর আমি গাইলে বলবে আমার ভুল হচ্ছে। (২৫৬)  
     --মৈত্রেয়ী দেবী, স্বর্গের কাছাকাছি, প্রাইমা পাবলিকেশন্‌স, কলকাতা, ১৩৮৮  


 

 

১১

একদিন যারা মেরেছিল তাঁরে গিয়ে
      রাজার দোহাই দিয়ে
এ যুগে তারাই জন্ম নিয়েছে আজি,
মন্দিরে তারা এসেছে ভক্ত সাজি--
      ঘাতক সৈন্যে ডাকি
      মারো মারো' ওঠে হাঁকি।
গর্জনে মিশে পূজামন্ত্রের স্বর--
মানবপুত্র তীব্র ব্যথায় কহেন, হে ঈশ্বর !
এ পানপাত্র নিদারুণ বিষে ভরা
দূরে ফেলে দাও, দূরে ফেলে দাও ত্বরা॥

Group

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

112

T  HOSE who struck Him once
in the name of their rulers,
are born again in this present age.

They gather in their prayer-halls
    in a pious garb,
they call their soldiers,
"Kill, Kill", they shout;
in their roaring mingles the music of
     their hymns,
while the Son of Man in His agony
     prays, "O God,
fling, fling far away this cup filled with
     the bitterest of poisons."
  

Poems: a collection of one hundred and thirty poems, all but fifteen of which have been translated by the Poet himself. Edited by Krishna Kripalani, Amiya Chakrabarty and others.  
     --Rabindranath Tagore, Poems, Visva-Bharati, 1942  



১৯৩৯ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  জওহরলাল নেহরু আর সুভাষচন্দ্র বসু শান্তিনিকেতনে এলেন কবির সঙ্গে দেখা করতে। পুরী বেড়াতে গেলেন, পুরীরাজ কবিকে 'পরমগুরু' উপাধি দিলেন। প্রকাশ: প্রহাসিনী (কবিতা), আকাশপ্রদীপ (কবিতা), শ্যামা (নৃত্যনাট্য), পথের সঞ্চয় (পত্রাবলী)

বহির্বিশ্বে: ১৯শে অগাস্ট সুভাষচন্দ্রের পরিকল্পিত মহাজাতি সদনের ভিত্তি স্থাপন করলেন রবীন্দ্রনাথ। স্পেনের গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি। ১লা সেপ্টেম্বর যুদ্ধ ঘোষণা না করেই জার্মানির পোল্যাণ্ড আক্রমণ -- অর্থাৎ দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের শুরু।  ডিডিটি, পলিথিলিন আবিষ্কার। কবি ইয়েট্‌স ও মনস্তত্ত্ববিদ সিগমুণ্ড ফ্রয়েডের মৃত্যু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: ইন্‌সাইড এশিয়া (গুন্‌থার), হাউ গ্রীন ওয়াজ মাই ভ্যালি (লিউলিন), কালেক্টেড পোয়েম্‌স (হাউসম্যান), ওয়েডিং ফিস্ট (কাম্যু), রোবেস্‌পিয়র (রল্যাঁ), দি ম্যাপ অফ লাভ (ডিলান টমাস), দি ওয়াল (সার্ত্র্‌), ফ্রীডম অ্যাণ্ড কালচার (ডিউই)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮