গীতবিতান-GITABITAN
আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ২২ চৈত্র ১৩২০ (১৯১৪)
কবির বয়স: ৫২
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
প্রকাশ: গীতিমাল্য র-র ১১ |
Rabindranath Tagore: The Augustan Books of Modern Poetry - Edward Thomson
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-বিরহ; ১৪৬/৬৭
রাগ / তাল: বেহাগ / তেওরা
স্বরলিপি: আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা (১৩২৫); স্বরবিতান ৪০
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
পাঠভেদ:
থাকবো পড়ে ঘরের মাঝে...
যাবো না এই মাতাল সমীরণে
  --[ গীবিন ] ১ম সং ১৩৩৮।  

আলোচনা

কোনো এক উৎসব উপলক্ষে আমরা বহু লোক বোলপুরে গিয়েছিলাম। খুব সম্ভব 'রাজা' নাটক অভিনয় উপলক্ষে। বসন্তকাল, জ্যোৎস্না রাত্রি। যত স্ত্রীলোক ও পুরুষ এসেছিলেন তাঁদের সকলেই প্রায় পারুলডাঙা নামক এক রম্য বনে বেড়াতে গিয়েছিলেন। কেবল আমি যাই নি রাত জাগবার ভয়ে।... গভীর রাত্রি। হঠাৎ আমার ঘুম ভেঙে গেল, মনে হল যেন 'শান্তিনিকেতনের' নীচের তলার সামনের মাঠ থেকে কার মৃদু মধুর গানের স্বর ভেসে আসছে। আমি উঠে ছাদে আলসের ধারে গিয়ে দেখলাম, কবিগুরু জ্যোৎস্নাপ্লাবিত খোলা জায়গায় পায়চারি করছেন আর গুন্‌গুন্‌ করে গান গাইছেন। আমি খালি পায়ে ধীরে ধীরে নিচে নেমে গেলাম, কিন্তু তিনি আমাকে লক্ষ করলেন না, আপন মনে যেমন গান গেয়ে গেয়ে পায়চারি করছিলেন তেমনি পায়চারি করতে করতে গান গাইতে লাগলেন। গান গাইছিলেন মৃদুস্বরে। তিনি গাইছিলেন 'আজ জ্যোৎস্নারাতে ...'।  -- চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়  

সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে একটি রাতের কথা। . .  .অনেক বছর আগেকার কথা। শান্তিনিকেতনে গিয়েছি অগ্রজপ্রতিম পরলোকগত চারু বন্দ্যোপাধ্যায় মশায়ের সঙ্গে। কবি আছেন তখন মহর্ষির তৈরি শান্তিনিকেতনের সেই আদিভবনে -- আজকাল যার নাম হয়েছে 'Old Guest House'। খাওয়া-দাওয়ার পর বেশ খানিকটা রাত্রি পর্যন্ত কবির গল্প শুনে শুয়ে পড়েছি। তিনি শুয়েছেন দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠে, বাঁদিকের ছোট ঘরটিতে -- বরাবরই তাঁর পছন্দ ছিল ছোট ঘর!-- তার পাশের বড় ঘরটিতে আছি চারুবাবু ও আমি। কতক্ষণ ঘুমিয়েছি জানি না, হঠাৎ 'চারুদা' আমার ঘুম ভাঙিয়ে বললেন-- 'অমল শুনচো?' শুনলাম কবির কণ্ঠ-- সুরালাপ করছেন। উঠে দেখি বসন্তের চাঁদের আলোয় শান্তিনিকেতনে দিগন্তবিস্তারী প্রান্তর প্লাবিত; গাড়ি-বারান্দার ছাদে একটা সাদা পাথরে বড় জলচৌকির উপর বসে রবীন্দ্রনাথ গান করছেন। চারুদা আর আমি পা টিপে টিপে এসে চুপি চুপি বসে পড়লাম কবির পিছনে। একটু পরেই বুঝতে পারলাম সুরের আলাপের সঙ্গে সঙ্গে কথা বসিয়ে হচ্ছে নতুন গানের সৃষ্টি -- আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে। ... সুরের নীহারিকাপুঞ্জ থেকে বেরিয়ে এল একটি পরিপূর্ণ জ্যোতির্ময় নক্ষত্র।. .  . আমি যে সময়ের কথা বলছি, তখন নিরন্তর সংগীতসৃষ্টির আনন্দে তাঁর দিনরাত্রি উঠত উদ্বেল হয়ে।  -- অমল হোম  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  



অজিতকুমার [চক্রবর্তী] লিখেছেন: "ইংলণ্ডে গুণীসমাজ কবির গলায় যে প্রশংসার মালা পরাইয়া দিয়ছিলেন সে সম্বন্ধে একটিমাত্র গান গীতিমাল্যে আছে-- '   এ মণিহার আমায় নাহি সাজে '। " একটি মাত্র গান? প্রত্যক্ষত হয়তো তাই; কিন্তু একটু ভিতরদিক থেকে দেখলে মনে হবে যে 'গীতিমাল্য'র উত্তরাংশের একটা বড়ো আবেগই আসছে বাইরের মত্ততা থেকে নিজের কেন্দ্রকে বাঁচিয়ে রাখবার এক সতর্ক বোধ থেকে। এভাবে দেখলে বোঝা যায় যে এ গানটি কোনো বিচ্ছিন্ন গান নয়, তার ঠিক ছ-মাস পরে লেখা এসব গানেও আছে ওই একই অনুভব:' সভায় তোমার থাকি সবার শাসনে '।

সভা আর ঘরের এই বিরোধে, সবার আর একার এই বিরোধে যে 'গীতিমাল্য'র অনেকগুলি গান ভরে আছে, তা একেবারে আকস্মিক নয় নিশ্চয়। 'এ মণিহার' গানটির পরদিনই কবি লিখবেন "মনে হল আকাশ যেন কইল কথা কানে কানে" ['   ভোরের বেলা কখন এসে ']। সেই নিভৃত ভোরের সংলাপ থেকে তিনি অর্জন করে নিতে চাইবেন তাঁর জীবনীশক্তি, ঘরকে তিনি করে তুলবেন তাঁর আত্মস্থতার মুদ্রা। তাই জ্যোৎস্নারাতে সবাই যখন বনে চলে যায় তখনো তাঁকে বহু যত্নে সাজিয়ে রাখতে হবে তাঁর নিরালার ঘরখানি, যেন কোনো প্রেরণার মুহূর্তের প্রতীক্ষায়, "যদি আমায় পড়ে তাহার মনে" ['   আজ জ্যোৎস্নারাতে   ']।  একেবারে ভিন্ন দেশের এক আধুনিক কবি জাঁ কক্‌তো, তাঁর সৃষ্টিপ্রেরণার কথা বলতে গিয়ে বলেছিলেন যে কবি আছেন তাঁর রাত্রির অধিকারে, কোনো এক গহন আবির্ভাবের জন্য তাঁকে ধুয়ে মুছে রাখতে হয় ঘর। অমলেরও সামনে এসে রাজকবিরাজ বলেছিলেন: "এই ঘরটি রাজার আগমনের জন্যে পরিষ্কার করে ফুল দিয়ে সাজিয়ে রাখো। " এ হলো তবে সেইসব ঘর, যেখানে দাঁড়িয়ে জীবনকে আর সুন্দরকে তার অন্তঃস্বরূপে দেখতে পাওয়া যায়। এই দেখা থেকে জেগে ওঠে মৃত্যু, মৃত্যুর ভূমিকায় জীবন, এই দেখা থেকেই জেগে ওঠে শিল্প। মৃত্যু আর শিল্প এইভাবে কখনো এক জায়গায় এসে মিলে যায়। আত্মসৃষ্টির সঙ্গে 'গীতিমাল্য'-র গানগুলি সেই শিল্পসৃষ্টিরও নেপথ্যঘর। তাই এত বেশি গানের গান ছড়িয়ে আছে এই বইটিতে, তাই এখানে এমন করে তিনি বলতে পারেন যে '   প্রাণে গান নাই ' বা "প্রকাশ করি, আপনি মরি" ['   সে দিনে আপদ আমার ']। (৪৮)  
     --শঙ্খ ঘোষ, এ আমির আবরণ, প্যাপিরাস, ১৯৮২  


বেহাগ। রবীন্দ্রনাথ বেহাগের সুরে যত সুন্দর-সুন্দর সুরনির্মাণ করেছেন, আর কোনো রাগ সম্ভবত তার পাশে দাঁড়াতে পারে না। সংখ্যায় না হলেও গুণে বুঝি বেহাগই কবির প্রিয়তম, আমাদের কাছে বেহাগই বুঝি সবচেয়ে বেশি নম্বর পাবে। গানের তালিকায় না গিয়ে আমরা বরং বেহাগের রাবীন্দ্রিকতার খোঁজেই যাই। রবীন্দ্র-বেহাগে খাম্বাজ প্রায়ই চুপিসাড়ে ঢুকে পড়ে এবং তাকে আর ধরাই যায় না, কিন্তু বেহাগত্ব থাকে অক্ষুণ্ণ। এটা বাংলা বেহাগেরই একটা চরিত্র। শুধু একটিমাত্র স্বরের স্থান পরিবর্তনে এটি ঘটে যায় -- অবরোহতে প্রধানত শুদ্ধ নিষাদের স্থানে কোমল নিষাদ, এতে সুরের আবেদনে মরমিত্বের মাত্রা এসে যায়। রবীন্দ্রনাথের বেহাগের পর বেহাগে এই ব্যাপারটা ঘটে থাকে। এই কোমল নিষাদ হাজির হয় গানের অন্তরা বা সঞ্চারীতে। ...  অনেকে এই সুরকারুটিকে বিহাগড়া বলতে পারেন।  
     --সুধীর চন্দ, বহুরূপী রবীন্দ্রনাথ, প্যাপিরাস, ২০০৫  


 

 

১৪৬

আজ   জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে
       বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥
যাব না গো যাব না যে,   রইনু পড়ে ঘরের মাঝে--
       এই নিরালায় রব আপন কোণে।
             যাব না এই মাতাল সমীরণে॥
       আমার এ ঘর বহু যতন ক'রে
             ধুতে হবে মুছতে হবে মোরে।
আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে
        যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
             বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥

Group

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

T HEY have all gone to the woods in this moonlit night,
  In the south wind drunken with Spring's delight.
  But I will not go, will not go;
  I will stay in the house, and so
Wait in my lonely corner-this night
I will not go in this south wind drunk with delight.

  Rather, this room with care
  I must scour and cleanse and prepare;
    For ... if He remembers me, then
    He will come, though I know not when;
They must wake me swiftly. I will not fare
Out where the drunk wind reels through the air.
  
     --Edward Thomson, Rabindranath Tagore: The Augustan Books of Modern Poetry, Ernest Benn Ltd. London, 1925  



১৯১৪ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  'বলাকা' রচনা। 'বিচিত্রা সভা' প্রতিষ্ঠা। 'অচলায়তন' অভিনয়, গুরুর ভূমিকায় কবি। সপরিবারে রামগড়ে সময় কাটালেন কিছুদিন। প্রকাশ: উৎসর্গ, স্মরণ, গীতিমাল্য, গান, ধর্মসঙ্গীত, গীতালি, The King of the Dark Chamber, One Hundred Poems of Kabir, The Post Office.  

বহির্বিশ্বে: আমেরিকার সান্‌ ফ্রান্‌সিস্কো শহরে স্থাপিত গদর সমিতির এক অভিযান ও সরকারের সঙ্গে সঙ্ঘর্ষে ১৭ জনের মৃত্যু। কলকাতায় অস্ত্রব্যবসায়ী রডা কোম্পানী লুট করে বিপ্লবীরা অনেক অস্ত্র সংগ্রহ করেন। ভারত ও চীনের সীমান্ত নির্দেশক ম্যাকমোহন লাইন প্রস্তাবিত। স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে ইণ্ডিয়ান সায়েন্স কংগ্রেসের সূচনা। প্রমথ চৌধুরীর সম্পাদনায় মাসিক 'সবুজপত্র'-এর প্রকাশ। পানামা ক্যানাল খুললো। ৪ঠা অগাস্ট ব্রিটেন জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলো -- প্রথম মহাযুদ্ধের শুরু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: গ্রোথ অফ দি সয়েল (হামসুন), ডাবলিনার্স (জয়েস), দি কাপ অফ লাইফ (বুনিন)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


. .  . এপার আর ওপার, মাঝখানে এক যোগ খুঁজে বেড়ানো। ... কয়েকদিন আগে একজন মহিলা বলেছিলেন 'আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে' গানটি একটু মেয়েলি। কথাটা মিথ্যে নয়, কিন্তু তখনি আমাদের মনে পড়ে রবীন্দ্রনাথের এই বোধ যে আমাদের সবারই মধ্যে পুঞ্জ হয়ে আছে এক নারীসত্তা, এই নারীত্বই যেন তৈরি করেছে সেই সেতু। এই সেতুর ওপর দিয়ে কবি নিজেকে সঁপে দেন তাঁর রাত্রির হাতে, তাঁর সৃষ্টিশীলতার হাতে। খুবই নম্র তাঁর ভূমিকা, তাঁর ঘরটি শুধু ধুয়ে রাখবেন তিনি, আর অপেক্ষা করবেন এক আবির্ভাবের। ঠিক সেইরকমই শুনেছি আমরা আমাদের কবির গানে: "আমার এ ঘর .  . . সে আসবে কবে। " আমি আবারও বলতে চাই যে এর সঙ্গে ধর্মচেতনার কোনো অব্যাহত সম্পর্ক নেই, যদি-না বলি জীবনচেতনাই ধর্মচেতনা, যদি-না বলি শিল্পচেতনাই ধর্মচেতনা।  
     --শঙ্খ ঘোষ, "মর্ত্য কাছে স্বর্গ যা চায়", সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত রবীন্দ্রসংগীত চিন্তা, প্রতিভাস, ১৯৯৩  


রবীন্দ্রনাথের রাগচিত্রমালাতে কোনো বিশেষ প্রবণতা-পক্ষপাত চোখে পড়ে কি? না-পড়েই পারে না। তাঁর দুহাজার গানের হাজার দেড়েক তো গোটা বারো রাগেই আবর্তিত। তার মধ্যেও বারোশোর ওপর গান আটটি মাত্র রাগের বৃত্তেই সঞ্চরমান। তাহলে আমরা কি বলতে পারি না রবীন্দ্রনাথের প্রিয়তম রাগমালা এরাই: ভৈরবী, ইমনকল্যাণ, পিলু, খাম্বাজ, বেহাগ, ভৈরবকালাংড়া, কাফি, দেশ। কীর্তন-বাউলও যে রাগের ছদ্মবেশ তা আমরা আগেই ধরে ফেলেছি। বড়ো রাগগুলোর মধ্যে যাদের সুরে রবীন্দ্রনাথ তান তোলেননি তাদের খুঁজলে প্রথমেই পাওয়া যাবে জয়জয়ন্তী। ... কিন্তু বেশ কিছু গানের শিরোনামে জয়জয়ন্তী দেওয়া আছে। স্বরলিপি দেখলেই বোঝা যায় সুরটি আসলে দেশ। ... হিন্দোল রাগকেও রবীন্দ্রনাথ পাশ কাটিয়ে গেছেন। বাংলা চিরায়ত গানে মালকোষ বড়ো গাইয়ে হলেও রবীন্দ্রসংগীতের আসরে সে এককোণে পাত পেতেছে মাত্র। অনিমন্ত্রিত দুর্গা বা ভাটিয়ার। ভৈরবও ডাক পায়নি।  
     --'রবিরাগের সন্ধানে', সুধীর চন্দ, রবীন্দ্রনাথের গান সঙ্গ-অনুষঙ্গ, আলপনা রায় সম্পাদিত, প্যাপিরাস দ্বিতীয় সংস্করণ, ২০০২  


আগে বেহাগে কোমল 'নি' ব্যবহার করা হত আরোহণ ও অবরোহণে, হালে হচ্ছে না। রবীন্দ্রনাথ বেহাগ সুরে বাঁধা তাঁর অনেক গানেই কোমল 'নি' ব্যবহার করেছেন। যেমন প্রথম বয়সের রচনা ' ওগো শোনো কে বাজায় ' গানটিতে। আবার শুদ্ধ নিখাদ দিয়ে তৈরি করেছেন অনেক গান, যেমন ' মেঘ বলেছে যাবো যাবো ', ' আজ জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে ' প্রভৃতি গান। বেহাগের প্রচলিত স্বরবিন্যাস হচ্ছে পা হ্মা গা মা গা কিন্তু রবীন্দ্রনাথের বেহাগ সুরের গানে এটি একেবারে পাওয়া যায় না। অনেক গানে কড়িমধ্যম সম্পূর্ণ বর্জিত, যেমন ' স্বামী তুমি এসো আজ ' গানটিতে। কোনো কোনো গানে কড়িমধ্যম নেই কিন্তু শুদ্ধ 'নি'-র সঙ্গে কোমল 'নি'র ব্যবহার আছে। বেহাগ সুরের কিছু গানে রবীন্দ্রনাথ বেহাগ সুরের সঙ্গে খাম্বাজ মিশিয়েছেন, যেমন, ' [আজি তোমায়] আবার চাই শুনাবারে ' গানটিতে। (৪৭)  
     --সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্রনাথের গান, বৈতানিক প্রকাশনী, ১৩৯৬