গীতবিতান-GITABITAN
জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো

Manuscript

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ২৮ চৈত্র ১৩১৬ (১৯১০)
কবির বয়স: ৪৮
রচনাস্থান: বোলপুর
প্রকাশ: ১৯১০,শ্রাবণ ১৩১৭ , গীতাঞ্জলি ৫৮ র-র ১১ |
Gitanjali 39
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-প্রার্থনা; ৯৫/৪৪
রাগ / তাল: দেশ / একতাল
স্বরলিপি: গীতলিপি ৫; সঙ্গীত গীতাঞ্জলি; স্বরবিতান ৩৮
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়; ভীমরাও শাস্ত্রী; সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাদটিকা:
জয়জয়ন্তী [ স্বর ]।  

আলোচনা

১৯৩২ সালে পুনার যারবেদা জেলে মহাত্মা গান্ধীর অনশন্ভঙ্গ উপলক্ষে কবি উপস্থিত ছিলেন এবং লিখেছেন: "প্রায়োপবেশনের ব্রত উদ্‌াযাপিত হল। মহাদেব [দেশাই] বললেন, 'জীবন যখন শুকায়ে যায়' এই গানটি মহাত্মাজীর প্রিয়। সুর ভুলে গিয়েছিলেম। তখনকার মতো সুর দিয়ে গাইতে হল। " (৫৯)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  



এই বৎসর [১৩১৭ বঙ্গাব্দ] ১১ই মাঘ রাত্রে জোড়াসাঁকোর বাড়ির উৎসবে রবীন্দ্রনাথ আচার্য হইবেন শুনিয়াছিলাম। ... রবীন্দ্রনাথ উদ্বোধন ও উপদেশের ভার লইয়াছিলেন, স্বাধ্যায়ের ভার ছিল চট্টোপাধ্যায়-মহাশয়ের [চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায়] উপর। উপদেশের পর দু-লাইন গান গাহিয়া রবীন্দ্রনাথ শেষ করিলেন। গানগুলি যদিও অনেক নামকরা ওস্তাদরা গাহিলেন, তবু শুনিতে কিছু ভালো লাগিল না। রবীন্দ্রনাথ পিছন ফিরিয়া অনেকবার গানের সুর ও তাল সংশোধন করিয়া দিলেন, তাহাতেও সুবিধা হয় না দেখিয়া নিজেই গায়কদের সঙ্গে গান ধরিয়া দিলেন। ' জীবন যখন শুকায়ে যায় ', এই গানটি প্রথম শুনিলাম সেই দিন। আর শুনিলাম ' জনগণমন অধিনায়ক '। এই মহা-সংগীতটি কয়দিন আগেই রচিত হইয়াছিল। (৩৮)  
     --সীতা দেবী, পুণ্যস্মৃতি, জিজ্ঞাসা, কলকাতা, ১৩৯০  


 

 

৯৫

     জীবন যখন শুকায়ে যায় করুণাধারায় এসো।
     সকল মাধুরী লুকায়ে যায়,    গীতসুধারসে এসো॥
কর্ম যখন প্রবল-আকার     গরজি উঠিয়া ঢাকে চারি ধার
     হৃদয়প্রান্তে, হে জীবননাথ,    শান্ত চরণে এসো॥
আপনারে যবে করিয়া কৃপণ    কোণে পড়ে থাকে দীনহীন মন
     দুয়ার খুলিয়া, হে উদার নাথ, রাজসমারোহে এসো।
বাসনা যখন বিপুল ধুলায়    অন্ধ করিয়া অবোধে ভুলায়,
     ওহে পবিত্র, ওহে অনিদ্র, রুদ্র আলোকে এসো॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

ইংরেজী গীতাঞ্জলির ৩৯-নং গান:

XXXIX

W HEN the heart is hard and parched up, come upon me with a shower of mercy.
    When grace is lost from life, come with a burst of song.
    When tumultuous work raises its din on all sides shutting me out from beyond, come to me, my lord of silence, with thy peace and rest.
    When my beggarly heart sits crouched, shut up in a corner, break open the door, my king, and come with the ceremony of a king.
    When desire blinds the mind with delusion and dust, 0 thou holy one, thou wakeful, come with thy light and thy thunder.

  
     --Gitanjali (Song Offerings) by Rabindranath Tagore

A Collection of Prose Translations made by the Author from the Original Bengali, MacMillan, London March, 1913

  


১৯১০ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  রথীন্দ্রনাথের বিবাহ। 'রাজা' রচনা। শান্তিনিকেতনের নানা উন্নতি -- মেয়েদের বোর্ডিং, শিশুদের জন্য নতুন বাড়ি, ছাত্রসংখ্যা বৃদ্ধি। 'প্রায়শ্চিত্ত' অভিনয়, ধনঞ্জয় বৈরাগীর ভূমিকায় কবি। প্রকাশ: শান্তিনিকেতন ৯-১১, গোরা, গীতাঞ্জলি, রাজা।

বহির্বিশ্বে: লণ্ডনে ইণ্ডিয়া সোসাইটির প্রতিষ্ঠা, রদেন্‌স্টাইন সভাপতি, ফক্স স্ট্র্যাংওয়েজ সম্পাদক -- এই সোসাইটিই প্রথম ইংরেজি গীতাঞ্জলি প্রকাশ করে। সপ্তম এডওয়ার্ডের মৃত্যু, পঞ্চম জর্জ পরবর্তী ব্রিটিশ সম্রাট। জাপানের কোরিয়া জয়। পর্তুগালে প্রজাতন্ত্র স্থাপন। চীনে দাসত্ব প্রথার বিলোপ। নাসিক মামলায় বিনায়ক সাভারকারের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর। লিও টলস্টয়, ফ্লোরেন্‌স নাইটিংগেল ও রেড ক্রসের প্রতিষ্ঠাতা ডুনাণ্টের মৃত্যু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: হাওয়ার্ড্‌স এণ্ড (ফর্স্টার), দি ভিলেজ (বুনিন)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮