গীতবিতান-GITABITAN
আমার মন মানে না-- দিনরজনী।

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১২৯৯ (১৮৯২)
কবির বয়স: ৩১
প্রকাশ: ১৮৯৬,আশ্বিন ১৩০৩ , কাব্যগ্রন্থাবলী (গান)
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): প্রেম-প্রেমবৈচিত্র্য; ৫৮/২৯৫
রাগ / তাল: পিলু-ভীমপলশ্রী-কীর্তন / একতাল
স্বরলিপি: বীণাবাদিনী (১৩০৪); স্বরবিতান ১০
স্বরলিপিকার: অনুল্লিখিত; জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর
পাদটিকা:
১৫ কার্তিক -১৫ অগ্রহায়ণের মধ্যে রচিত। মিশ্র মুলতান [ স্বর ১০]।  

আলোচনা

তাঁর গানের সুরের ব্যাপারে গুরুদেব খুবই অনুভূতিপ্রবণ ছিলেন। ... 'আমার মন মানেনা' গানটি গুরুদেবের কথায় তাঁর কাছে শিখেছি; গানের ক্লাসে গান কখন কখনও আমি বাছতাম, কখনও বা উনি। ... এর আগে একবার দিনদার কাছে এই গানটিই শিখেছিলাম। দুজনের মধ্যে সুরের কিছুটা তফাৎ ছিল। এ বিষয়ে কিছু না বলে আমি বললাম -- এ গানটা আমি আগে দিনদার কাছে শিখেছি।

শুনে গুরুদেব ভীষণ চটে গেলেন। চটে গিয়ে বললেন -- পাঁঠাটা আমার, ঘাড়ে কাটব না ল্যাজে কাটব, সেটা আমিই জানি। আমি যে সুর শিখিয়েছি সে সুরে গাইবে, অন্য সুরে নয়। ... [আগের করা স্বরলিপির সঙ্গে] গুরুদেবের শেখান সুরটি একেবারে মিলে গেল।  
     --শৈলজারঞ্জন মজুমদার, যাত্রাপথের আনন্দগান, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৮৫  



 

 

৫৮

            আমার মন মানে না-- দিনরজনী।
আমি     কী কথা স্মরিয়া এ তনু ভরিয়া পুলক রাখিতে নারি।
ওগো,    কী ভাবিয়া মনে এ দুটি নয়নে উথলে নয়নবারি--
                      ওগো সজনি॥
         সে সুধাবচন, সে সুখপরশ, অঙ্গে বাজিছে বাঁশি।
তাই     শুনিয়া শুনিয়া আপনার মনে হৃদয় হয় উদাসী--
                      কেন না জানি॥
ওগো,    বাতাসে কী কথা ভেসে চলে আসে, আকাশে কী মুখ জাগে।
ওগো,    বনমর্মরে নদীনির্ঝরে কী মধুর সুর লাগে।
         ফুলের গন্ধ বন্ধুর মতো জড়ায়ে ধরিছে গলে--
আমি     এ কথা, এ ব্যথা, সুখব্যাকুলতা কাহার চরণতলে
                      দিব নিছনি॥

Group

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

১৮৯২ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ: এ বছর বারবার জমিদারির কাজে শিলাইদহ গেছেন। সপরিবারে শান্তিনিকেতনে কাটালেন কিছু সময়। অগাস্ট মাসে 'সঙ্গীত সমাজ'-এ যোগ দিয়ে গান শোনান আর সেখানে 'গোড়ায় গলদ'-এর অভিনয় হয়। প্রকাশ: চিত্রাঙ্গদা, গোড়ায় গলদ।

বহির্বিশ্বে: আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায় 'বেঙ্গল কেমিক্যাল্‌স্‌' স্থাপিত করলেন। আমেরিকান কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান ও ইংরেজ কবি অ্যালফ্রেড লর্ড টেনিসনের মৃত্যু। চাইকোভ্‌স্কির 'দি নাটক্র্যাকার' প্রকাশিত হোলো।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  



নিঃসন্দেহে বলা যায় গানের ক্ষেত্রে বিশ্বে অতুলনীয় রবীন্দ্রনাথ। এখানে দেশে ও বিদেশে অতীতে ও বর্তমানে কেউ তাঁর কাছে আসতে পারে না। এক হাতে এত গান, এত ভালো গান কখনো বাঁধেননি জগতের আর-কোনো কবি। এক রবীন্দ্রনাথের দাক্ষিণ্যে বাংলা ভাষা আজ পৃথিবীতে অগ্রণী। তুলনায় এত বড়ো জাঁকালো ইংরেজি সাহিত্যও কী দরিদ্র!  

... আসলে রবীন্দ্রনাথের মধ্যে বিরাট কবিপ্রতিভা ও গীতপ্রতিভার যে-অদ্ভুত মিলন হয়েছে, এ মিলনই বোধহয় এর আগে কোনো মানুষে কখনো হয়নি। এত বড়ো কবি গান গেয়েছেন কবে, আর-কোন দিগ্বিজয়ী কবিপ্রতিভা গান বাঁধবার নেশায় ক্ষেপেছে! এ দুয়ের সম্মিলন হয়েছে, এমন আর যে ক'জনের কথা মনে করা যায়, সকলেই ছোটো কবি। গানে তাই রবীন্দ্রনাথ রাজা, এ তাঁর এমন সৃষ্টি যেখানে কোনো প্রতিযোগী নেই। কবিতায় গল্পে উপন্যাসে, নাটকে, প্রবন্ধে সমালোচনায় তিনি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ লেখকদের একজন, নানা দিক থেকে তাঁর তুল্য অনেকেই; গানে তাঁর মতো কেউ নেই। গান তাঁর সব চেয়ে বড়ো, সব চেয়ে ব্যক্তিগত ও বিশিষ্ট সৃষ্টি; সমগ্র রবীন্দ্র-রচনাবলীর মধ্যে গানগুলি সব চেয়ে রাবীন্দ্রিক।  
     --বুদ্ধদেব বসু, রবীন্দ্রনাথের গান,কবিতা রবীন্দ্র-সংখ্যা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশীতিতম জন্মদিনে প্রকাশিত, ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৮ (৮ই মে ১৯৪১)। পুনর্প্রকাশ (ফ্যাক্সিমিলি সংস্করণ) বিকল্প প্রকাশনী, কবিপক্ষ, ১৪০৯