গীতবিতান-GITABITAN
মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।

Manuscript

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  আষাঢ় ১৩১৬ (১৯০৯)
কবির বয়স: ৪৮
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
প্রকাশ: শ্রাবণ ১৩১৬ , প্রবাসী |
গীতাঞ্জলি ১৬ (১৯১০);গান (বিবিধ)।
Gitanjali 18; Twenty six songs-A.A. Bake.
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): প্রকৃতি-বর্ষা; ৩২/৪৪১
রাগ / তাল: মিশ্র সাহানা / ত্রিতাল বা একতাল
স্বরলিপি: গীতলিপি ৩; সঙ্গীত গীতাঞ্জলি; বাকে; কেতকী (১৩২৬); স্বরবিতান ১১ (কেতকী);স্বরবিতান ৩৭
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়; ভীমরাও শাস্ত্রী; এ. এ. বাকে; দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর;ঐ; সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
পাদটিকা:
ছন্দান্তর: স্বরবিতান ১১ খণ্ডে ত্রিতালবদ্ধ, ও স্বরবিতান ৩৭ খণ্ডে একতালবদ্ধ স্বরলিপি আছে। সঙ্গীত গীতাঞ্জলির সঙ্গে সুরভেদ আছে।  

আলোচনা

[প্রবাসী-কার্যালয়ের] এই বাড়ির পাশে সেবাব্রত শশিপদ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয়ের বাড়ি, ইহার একতলায় ছিল 'দেবালয়'। শশিপদ বাঁচিয়া থাকিতেই প্রতি সপ্তাহে এখানে উপাসনা আলোচনা ও বক্তৃতাদি হইত। এইখানে দ্বিতীয়বার রবীন্দ্রনাথকে দেখিলাম। উহা বোধহয় ১৩১৭ সালে। রবীন্দ্রনাথ একটি ছোট প্রবন্ধ পাঠ করিলেন। সেকালে তাঁহার সুকণ্ঠের সংগীত শুনিবার আগ্রহ লোকের অত্যন্ত প্রবল ছিল। প্রবন্ধপাঠ শেষ হইতেই, চারিদিক্‌ হইতে অনুরোধ আসিতে লাগিল একটি গানের জন্য। গান গাইতে বলিলে আপত্তি তাঁহাকে তখনকার দিনে কখনও করিতে দেখিতাম না। শেষ বয়সে ভগ্নস্বাস্থ্য-অবস্থায় অবশ্য কিছু পরিবর্তন ঘটিয়াছিল।

রবীন্দ্রনাথ একটি ছোট খাতা বাহির করিয়া গান বাছিতে লাগিলেন। 'মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে' গানটি বোধ হয় তখন সম্প্রতি রচনা করিয়াছিলেন, সেইটিই তিনি গাহিলেন। বক্তৃতার খবর বেশি লোকে পায় নাই, কাজেই 'দেবালয়ে'র ছোট ঘরখানি ভর্তি হইয়া গেলেও বাহিরে তেমন জনসমাগম হয় নাই। কিন্তু তাঁহার অপূর্ব কণ্ঠস্বর চারটি দেওয়ালের বাধা না মানিয়া বাহিরে ছড়াইয়া পড়িবামাত্র 'দেবালয়ে'র সম্মুখের গলি ও ব্রাহ্মসমাজ-মন্দিরের প্রাঙ্গণে লোক ভরিয়া উঠিল। আমাদের পরিচিত এক ভদ্রলোক এই গানটির ভিতরেও পৌত্তলিকতার আভাস পাইয়া রবীন্দ্রনাথকে কয়েকটি অদ্ভুত প্রশ্ন করিলেন। তিনি কোন উত্তর না দিয়া সস্মিতমুখে চুপ করিয়া রহিলেন, ইহা এখনও মনে আছে। (২)  
     --সীতা দেবী, পুণ্যস্মৃতি, জিজ্ঞাসা, কলকাতা, ১৩৮৪  



মনে পড়ে কবিকে গান শেখাতে যে কয়েকবার দেখেছি সেকথা। ... তখন কবি উদয়ন গৃহের দোতালায় বড় ঘরে থাকেন, সন্ধ্যা হয়ে আসছে, আমি সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে আসছি, দরজার কাছে পৌঁছবার আগেই দ্বৈতকণ্ঠের সঙ্গীত শোনা গেল। কবির সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইছেন একটি মেয়ে-- কখনো বা কবি এক লাইন গাইছেন, মেয়েটি তার পুনরাবৃত্তি করছেন। আমি দরজার পাশে এসে পরদার আড়ালে দাঁড়ালাম, কবি একটি ইজিচেয়ারে বসেছিলেন পূর্বাস্য হয়ে আর একটি মোড়ায় একজন মহিলা বসে আছেন তাঁর কণ্ঠস্বর মধুর এবং সূক্ষ্ম-- আড়াল থেকে শুনে মনে হচ্ছিল যেন কোন্‌ স্বর্গলোক থেকে ভেসে আসছে-- ঘরের সামনে এসে দেখলাম ঠিক তা নয়-- একজন সাদাসিদে ঈষৎ ভারি চেহারা একটি ঘরোয়া বাঙালীর মেয়ে-- পরে শুনেছিলাম তাঁর নাম নুটু-- রবীন্দ্রনাথের বন্ধুকন্যা ও শান্তিনিকেতনের ছাত্রছাত্রীদের নুটুদি [রমা মজুমদার, পরে সুধীর করকে বিবাহ করেন]।

রবীন্দ্রনাথ বসেছিলেন, চেয়ারের হাতলের উপর তাঁর কনুই রাখা, হাত দুটি উপরের দিকে তোলা, ঐ রকম তাঁর বসার স্বাভাবিক ভঙ্গি। গান করছিলেন 'জাহ্নবী তাই মুক্তধারা' [ প্রলয়নাচন নাচলে যখন ]। উন্মাদিনীর জায়গায় সুর ঈষৎ ঊর্ধে উঠে যাচ্ছে তখন তাঁর ভ্রূকুঞ্চিত চক্ষু বোজা-- পরেও লক্ষ্য করেছি যখনই সুর উঁচু গ্রামের দিকে যেত কিংবা কোনো মীড়ের জায়গায়-- যেমন '   মেঘের পরে মেঘ জমেছে '-- তখন তাঁর গায়কী ঢঙ-এ ঈষৎ ভ্রূকুঞ্চন, অর্ধমুদিত চোখ, মাথা সামান্য পিছনদিকে হেলান এছাড়া কোনো আতিশয্য থাকত না।

রবীন্দ্রনাথ এক লাইন করে গাইছেন আর নুটুদি অনুবর্তন করছেন, চলেছে-- চলেইছে, একেবারে নিখুঁত না করে ছাড়বেন না।  
     --মৈত্রেয়ী দেবী, স্বর্গের কাছাকাছি, প্রাইমা, ১৯৮৪  


রবীন্দ্রসঙ্গীতে কথার উচ্চারণে নানা বিকৃতি লক্ষ্য করা যায়।...  
[তিনটি উদাহরণের-- 'মন মোর মেঘের সঙ্গী' পশ্য-- পর] চতুর্থতঃ, এক শ্রেণীর শিল্পী রবীন্দ্রসঙ্গীতের উচ্চারণকে অতিমাত্রায় স্পষ্ট করে প্রকাশ করবার চেষ্টা করে থাকেন। এতে রবীন্দ্রসঙ্গীতের রস অনেক সময় ব্যাহত হয়। ... 'মেঘের পরে মেঘ জমেছে' গানটির প্রথম কলি গীত হবার সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতার মনে একটি মেঘপরিব্যাপ্ত স্নিগ্ধ ছায়া ঘনিয়ে আসে। একটি একাকিত্বের বিরহ আচ্ছন্ন করে। কিন্তু 'মন মোর মেঘের সঙ্গী' গানটির মেঘ সে ভাবে আসে না। সেখানে বিরহ, নির্জনতা এ সব কিছুই নেই; আছে উদ্দাম বেগময়তা, প্রকৃতির নৃত্যমুখর আসরের ছন্দদোলা। কাজেই 'মেঘ' শব্দটি প্রথম গানটির উচ্চারণে যে শান্তরসের উদ্রেক করে, দ্বিতীয় গানে তার উচ্চারণ আরো স্পষ্ট সজাগ ও ছন্দের আনুমাত্রিক হওয়া দরকার।  
     --শৈলজারঞ্জন মজুমদার, "রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষাপ্রসঙ্গ", রবীন্দ্র ভাবনা, ২০০০ যুগ্ম সংখ্যা, টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটুট, কলকাতা  (পৃঃ ১৫)  


 

 

৩২

মেঘের পরে মেঘ জমেছে, আঁধার করে আসে।
আমায় কেন বসিয়ে রাখ একা দ্বারের পাশে॥
   কাজের দিনে নানা কাজে   থাকি নানা লোকের মাঝে,
   আজ আমি যে বসে আছি তোমারি আশ্বাসে॥
তুমি যদি না দেখা দাও, কর আমায় হেলা,
কেমন করে কাটে আমার এমন বাদল-বেলা।
   দূরের পানে মেলে আঁখি   কেবল আমি চেয়ে থাকি,
   পরান আমার কেঁদে বেড়ায় দুরন্ত বাতাসে॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

ইংরেজী গীতাঞ্জলির ১৮-নং গান:

XVIII

C LOUDS heap upon clouds and it darkens. Ah, love, why dost thou let me wait outside at the door all alone?
    In the busy moments of the noontide work I am with the crowd, but on this dark lonely day it is only for thee that I hope.
    If thou showest me not thy face, if thou leavest me wholly aside, I know not how I am to pass these long, rainy hours.
    I keep gazing on the far-away gloom of the sky, and my heart wanders wailing with the restless wind.  
     --Gitanjali (Song Offerings) by Rabindranath Tagore

A Collection of Prose Translations made by the Author from the Original Bengali, MacMillan, London March, 1913

  



১৯০৯ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  মে মাসে কালকাভ্রমণে গিয়ে 'প্রায়শ্চিত্ত' রচনা। এছাড়া গীতাঞ্জলির কিছু গান, 'তপোবন' প্রবন্ধ (ওভারটুন হলে পাঠ)। শান্তিনিকেতনের বার্ষিক উৎসবে প্রাচীন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে ভাষণ। রথীন্দ্রনাথ আমেরিকা থেকে ফিরলেন। চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পাদনায় সচিত্র 'চয়নিকা' প্রকাশ, চিত্রশিল্পী তরুণ নন্দলাল বসু। অধ্যাপক রবি দত্ত প্রণীত ইস্ট-ওয়েস্ট কাব্য সঙ্কলনে প্রথম কবির কবিতাগুচ্ছের ইংরেজি অনুবাদ গ্রথিত হোলো। প্রকাশ: শব্দতত্ত্ব, ধর্ম, শান্তিনিকেতন ১-৮ (গদ্যগ্রন্থাবলীর বিভিন্ন খণ্ড হিসাবে), প্রায়শ্চিত্ত, চয়নিকা, ছুটির পড়া, গান, বিদ্যাসাগর চরিত, ইংরেজি পাঠ, শিশু।

বহির্বিশ্বে: আলিপুর ষড়যন্ত্র মামলায় দুজনের ফাঁসি ও সাতজনের দ্বীপান্তরের রায় দেওয়া হোলো। ১৫ নভেম্বর কাউন্সিল অফ ইণ্ডিয়া বিধিবদ্ধ। মর্লে-মিণ্টো শাসনসংস্কার প্রস্তাব গৃহীত হোলো -- দেশের শাসন ব্যবস্থায় জনপ্রতিনিধিত্বের প্রবেশ হোলো। লর্ড সত্যপ্রসন্ন সিংহ ভারতের শাসন পরিষদে প্রথম ভারতীয় নির্বাচিত হলেন। রবার্ট পিয়েরি দ্বারা উত্তর মেরু আবিষ্কার। জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বার ছাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হোলো। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: দি ব্লু বার্ড (মেটারলিঙ্ক), দি ইন্‌টারপ্রিটেশন অফ ড্রিম্‌স (ফ্রয়েড)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


'তোমারি আশ্বাসে'। তুমি, তুমি। কে এই তুমি? এই শেষ গানটি যে প্রকৃতি-পর্যায়ে আর 'রাজপুরীতে বাজায় বাঁশি' পূজার পর্যায়ে সাজানো আছে গীতবিতানে, এই ব্যাপারটা লক্ষ্য করে বিব্রত ছিলেন বুদ্ধদেব বসু। 'রাজপুরীতে বাজায় বাঁশি'-কে যে প্রেমের কবিতাও মনে হতে পারে, এ-কথা বলতে বুদ্ধদেব দ্বিধা করেনেনি। কিন্তু একে প্রেমের পর্যায়ে সাজিযে দিলেই কি যথেষ্ট তৃপ্ত হতাম আমরা? আর 'মেঘের পরে মেঘ জমেছে', সে-ই বা কীভাবে অতীন্দ্রিয় ইঙ্গিতে ক্ষান্ত থাকবে তাহলে? কেন বা তাকেও বলা হবে না প্রেমেরই গান? যার দেখা না পেয়ে এই বাদলবেলা কাটতে চায় না, প্রতীক্ষায় একা দুয়ারের পাশে বসিয়ে রেখেছে যে, সে কি প্রেমিক অথবা প্রেমিকাই নয়? এর কোনো কথাই নিশ্চিত করে বলবার উপায় নেই, এই 'তুমি' এক আশ্চর্য সর্বনাম, আক্ষরিক অর্থেই 'সর্বনাম' সে।... রিল্‌াকের এক কবিতা বিষয়ে বুদ্ধদেব্ব বলেছিলেন যে একে 'একাধারে এক মর্ত্যমানবী ও ভগবানের উদ্দেশে রচিত বলে মেনে নিতে আমরা সানন্দে সম্মত। ' ঠিক, কিন্তু আমার মনে হয় এ তার চেয়েও বেশি একটু, এ এমন অনতিবিভাজিত স্তর যেখানে মানবী আর ঈশ্বরের সঙ্গেই মিলে আছে আরো-এক সত্তা: আত্মসত্তা। কখন যে এই তিন মিলে গিয়ে এক হয়ে যায়, আর কখন এর একটি সঞ্চারিত হয়ে চলে আসে অন্যটিতে, তা জানে না কেউ। আর এই মহিমান্বিত অগোচরকেই আভাসে আমাদের সামনে তুলে ধরে গানের সুর।  
     --শঙ্খ ঘোষ, মর্ত্য কাছে স্বর্গ যা চায়, সুব্রত রুদ্র সম্পাদিত রবীন্দ্রসংগীতের চিন্তা, প্রতিভাস, ১৯৯৩  


রবীন্দ্রনাথের গানে তত্ত্ব আছে, চিত্র আছে অসংখ্য, আছে প্রেম, দেশপ্রেম কি ভক্তির মতো নির্দিষ্ট ভাব কিন্তু আমার মনে হয় সে-সমস্তই উপলক্ষ্য মাত্র, লক্ষ্য নয়। বিশুদ্ধ আবেগের জগতে আমাদের পৌঁছে দেবার নানা রাস্তাই তিনি আবিষ্কার করেছেন, তার মধ্যে যে-পথ সব চেয়ে সরল ও ঋজু তা প্রকৃতি কিংবা ঋতুচক্র। ব্রহ্মসংগীত যেমন সব চাইতে অ-রাবীন্দ্রিক, তেমনি ঋতুর গানগুলো রাবীন্দ্রিক সৌরভে সব্চেযে বেশি ভরপুর, সেখানে প্রতিটি কথার চরম ব্যঞ্জনা নিষ্কাশিত। এই গানগুলো আমাদের সমস্ত জীবন অধিকার করে আছে; প্রতিদিনের জীবনে কতবার যে নতুন ক'রে নানা গানের নানা চরণ মনে পড়ে, নতুন ক'রে তাদের উপলব্ধি করি, তার কি অন্ত আছে। আকাশে মেঘ করে, নদীতে ছায়া পড়ে, একা চাঁদ আকাশ পাড়ি দেয়, হাওয়ায় গাছের পাতা দোলে, হঠাৎ একটু লাল রোদের ফালি ঘরে এসে পড়ে, সূর্যাস্ত আকাশে সোনা ছড়ায়, আবার শীত সন্ধ্যার শূন্যতা আকাশকে রিক্ত করে যায় -- যখন যা কিছু চোখে পড়ে, যা-কিছু মন দিয়ে ছুঁই সে-সমস্তই বয়ে আনে রবীন্দ্রনাথের কত গানের কত বিক্ষিপ্ত চরণ। তাঁর গান মনে না করে আমরা দেখতে, শুনতে, ভালোবাসতে, ব্যথা পেতে পারি না, আমাদের নিগূঢ় মনের বিরাট মহাদেশের কোথায় কী আছে হয়তো স্পষ্ট জানিনে, তবে এটা জানি যে সে-মহাদেশের মানচিত্র আগাগোড়াই তাঁর গানের রঙে রঙিন।  
     --বুদ্ধদেব বসু, রবীন্দ্রনাথের গান,কবিতা রবীন্দ্র-সংখ্যা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশীতিতম জন্মদিনে প্রকাশিত, ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৮ (৮ই মে ১৯৪১)। পুনর্প্রকাশ (ফ্যাক্সিমিলি সংস্করণ) বিকল্প প্রকাশনী, কবিপক্ষ, ১৪১২