গীতবিতান-GITABITAN
তোমার সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ২৯ ফাল্গুন ১৩২৮ (১৩ মার্চ,১৯২২)
কবির বয়স: ৬০
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
প্রকাশ: বৈশাখ ১৩২৯ , শান্তিনিকেতন পত্রিকা
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): পূজা-গান; ৩/৬
রাগ / তাল: বাউল / দাদরা
স্বরলিপি: নবগীতিকা ২; স্বরবিতান ১৫ (নবগীতিকা ২)
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ
পাদটিকা:
পূর্ণইমা রাত্রে রচিত।  

আলোচনা

যেমন পূজার, যেমন প্রেমের, রবীন্দ্র-রচনায় তেমনি কয়েকটি আছে গানের গান। 'পূজা' অংশে যে একুশটি উপশ্রেণীর কল্পনা করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ, তার প্রথমটিই ছিল 'গান', 'পূজা'র প্রথম বত্রিশটি রচনাই কোনো-না-কোনোভাবে সুরের কথা বলে। এটা আমাদের মনে থাকে বটে, কিন্তু অনেকসময় আমরা লক্ষ্য করতে ভুলে যাই যে 'প্রেম' অংশেরও প্রথম গানগুলি ওই একইরকমের গান, এরও প্রথম সাতাশটি রচনায় তৈরী হয়ে উঠেছে সুরের প্রসঙ্গ, গড়ে উঠেছে "গানের রতনহার"।

এ কি আকস্মিক একেবারে যে এই দুই পর্যায়ের প্রবেশক হিসেবে কবি সাজাতে চাইলেন এই গানের গানগুলি? না কি এর মধ্য দিয়ে গানের পথে ধর্মে আর গানের পথে ভালোবাসায় পৌঁছবার এক সাধনা করেন কবি? ধর্ম যেমন মানুষকে তার অহংসীমার বাইরে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়, ভালোবাসারও তো সেই কাজ। নিজেকে নিজের মধ্যে থেকে মুক্তি দিতে পারি যখন, নিজেকে মুক্ত করতে পারি পরিজন-পরিবেশের মধ্যে, অনায়াস আনন্দে বা গভীর বেদনায়, সেই মুহূর্তই ভালোবাসার মুহূর্ত। ধর্ম আর ভালোবাসা এই যে চরিতার্থতা চায়, ভেঙে দিতে চায় নিজের আবরণ, সেইখানেই তো নিয়ে যেতে চায় গান, যে গানের বিষয়ে বলা হয়েছিল 'চিরকালটাই আসে সামনে, ক্ষুদ্র কালটা যায় তুচ্ছ হয়ে'। তাই গানের গান হতে পারে এই দুই পর্যায়েরই যোগ্য প্রবেশক।

কিন্তু সে কথা যদি মেনে নেওয়া যায়, তবুও আমাদের জিজ্ঞাসা মেটে না। এই দুই পর্যায়ে যে সুর বা গানের কথা সাজানো হলো, তার মধ্যে কি কোনো ভিন্ন চরিত্রের কল্পনা আছে? কয়েকটি গান এ-পর্যায়ে, কয়েকটি ও-পর্যায়ে, এই মাত্র? না কি দু-পর্যায়ের গানেও আছে কোনো প্রচ্ছন্ন ভিন্নতা? এর একটা সহজ উত্তর হতে পারে এই যে 'পূজা'র বত্রিশটি গানের মধ্যে অন্তত কুড়িটি লেখা হয়েছিল ১৯২০ সালের আগে, আর 'প্রেমে'র সাতাশটির মধ্যে বাইশটি ওই সময়ের পরে।.. কিন্তু 'গীতবিতানে' কোনো অর্থেই গণ্য করা হয়নি কালক্রম। তাই সময়ের ক্রমিকতাই একমাত্র কথা নয়, এ-দুয়ের মধ্যে প্রভেদ থাকা সম্ভব অন্য কোনো ভাবনায়।

বহুদিন আগে অমিয় চক্রবর্তী তাঁর 'গানের গান' প্রবন্ধে বলেছিলেন যে এই গানগুলিকে সাজানো চলে তিনটি পর্যায়ে: গান-শোনা, গান-শোনানো আর গানের দেওয়া-নেওয়া। তাঁর মনে হয়েছিল 'পূজা' অংশে প্রধানত সেই সুরস্রষ্টার কথা আছে, বিশ্বলোক যাঁর রাগিণী। আর 'প্রেম' অংশের মধ্যে আছে দেওয়া-নেওয়ার সম্বন্ধ, বিরহমিলনের মধ্য দিয়ে গীতলীলা। কিন্তু তবুও একটা দ্বিধা ছিল অমিয় চক্রবর্তীর, হয়তো তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে গানগুলিকে এইভাবে শনাক্ত করা সহজ নয় বড়ো, হয়তো তিনি 'পূজা', 'প্রেম' নামগুলিকেই অনেকটা প্রশ্রয় দিচ্ছিলেন এই প্রভেদসূত্রের বর্ণনায়। তাই শেষ পর্যন্ত বলতে হয় তাঁকে: "কিন্তু পূজা ও প্রেমের মধ্যে তো ছেদ নেই; কবির সংকল্পিত গীতবিতানে তাই লিরিকের মালা গাঁথা হয়েছে।"

তবে কি একটু অন্যভাবে ভাববো আমরা? নিজের অস্তিত্বের মধ্যে যখন মানুষ অনুভব করতে পারে সমস্ত বিশ্বের অভিঘাত, তখন সে হয়ে ওঠে গভীরতর অন্য এক মানুষ। অভিঘাতের এই সম্পর্ককে রবীন্দ্রনাথ দেখেন সুরের উপমায়। এ অভিঘাত কখনো তীব্র, কখনো মৃদু, আনন্দের কখনো, কখনো ব্যথার। এ-গানগুলিতে সুরেরও বর্ণনা তাই কখনো আগুন হয়ে আসে, কখনো ঝরণা, হোম কখনো, কখনো মালা। কিন্তু সবসময়েই সে-সুর যোগ করছে একের সঙ্গে অন্যকে, আমির সঙ্গে এক তুমিকে। সে যোগ কখনো আমার গানে, কখনো তোমার গানে।

এই তুমির বোধ যদি আত্মস্থ এক সম্পূর্ণতার বোধ, এরই সঙ্গে যুক্ত হবার পথ যদি হয় গান, তবে সে-গানে কখনো তুমি এগিয়ে আসে আমির দিকে, কখনো তুমির দিকে আমি। 'পূজা'র মধ্যে যে গানের গান, সেখানে তুমি-আমির এই বিন্যাস প্রায় সমান সমান। সেখানে ' তোমার সুরের ধারা ঝরে ', তোমার সুর ফাগুনরাতে জাগে, তুমিই সেখানে সুরের আগুন লাগায়, তোমার বীণা বাজে, কিন্তু ওরই সঙ্গে আবার ' আমার সুরে লাগে তোমার হাসি ', ' আমার বেলা যে যায় সাঁঝবেলাতে, তোমার সুরে সুরে সুর মিলাতে '। বলা যায়, হয়তো এই সুর মেলানোর কাজ অনেকটা সম্পন্ন হয়ে এল 'প্রেম' পর্যায়ের গানের গানে, কেননা দু-একটি ছাড়া সেখানে সবক'টি গানের উৎসে আছি আমি। সেখানে ' তোমায় গান শোনাবো, তাইতো আমায় জাগিয়ে রাখো '।

অমিয় চক্রবর্তী লিখেছিলেন, "গান যেখানে ভক্তিরসে বিধৃত, কবির নিজের সংগীতও সেখানে পূজার পর্যায়ে স্থান পেয়েছে।" কিন্তু এই যে জাগিয়ে রাখার গানটির কথা বলা হলো, এর মধ্যে যদি কোনো ভক্তিরস না থাকে, এ যদি হয় প্রেমেরই গান, এ যদি নন্দিনীকে শোনাতে চায় বিশু, তবে ' আমি তোমায় যত শুনিয়েছিলেম গান ' কেন হবে না স্বতন্ত্রভাবে ভক্তিরসের, তা বোঝা যায় না ভালো। এ কোনো ভক্তির কথা নয়, এ হলো ব্যক্তির কথা, এ কেবল প্রকাশ-বেদনার কথা, যে-বেদনা সম্পূর্ণের সঙ্গে নিজের বিচ্ছেদকে প্রত্যক্ষ করে তোলে শুধু, যে-বেদনা এগিয়ে নিতে চায় সমস্তের সঙ্গে মিলনের দিকে। তারই এক নাম হতে পারে প্রেম, তারই এক নাম হতে পারে পূজা। এই অর্থেই গানের গানগুলি এক সহজ সেতু তৈরি করে রাখে পূজা আর প্রেমের মধ্যে, দুই জগতে বড়-রকমের ভিন্নতা থাকে না আর। (৭৪)

['এই সাইটে 'সার্চ' পাতায় 'পূজা' বা 'প্রেম' পর্যায় ও 'গান' বিষয় খোঁজ করলে এসব গানের তালিকা পাওযা যাবে।]  
     --শঙ্খ ঘোষ, এ আমির আবরণ, প্যাপিরাস, ১৯৮২  



 

 

তোমার  সুরের ধারা ঝরে যেথায় তারি পারে
       দেবে কি গো বাসা আমায় একটি ধারে?।
            আমি  শুনব ধ্বনি কানে,
            আমি  ভরব ধ্বনি প্রাণে,
       সেই ধ্বনিতে চিত্তবীণায় তার বাঁধিব বারে বারে॥
আমার নীরব বেলা সেই তোমারি সুরে সুরে
       ফুলের ভিতর মধুর মতো উঠবে পুরে।
            আমার   দিন ফুরাবে যবে,
            যখন     রাত্রি আঁধার হবে,
        হৃদয়ে মোর গানের তারা উঠবে ফুটে সারে সারে॥

Bust

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

১৯২২ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  'মুক্তধারা' রচনা। কলকাতার রঙ্গমঞ্চে 'শারদোৎসবে' সন্ন্যাসীর ভূমিকা। দক্ষিণ-পশ্চিম ভারত ভ্রমণ ও বিশ্বভারতীর জন্য অর্থসংগ্রহ কারণে বক্তৃতা সফর। প্রথম সিংহল যাত্রা। বোম্বাই ও আমেদাবাদ ভ্রমণ। গান্ধীজীর সবরমতী আশ্রমে গিয়ে ভাষণ দিলেন। প্রকাশ: লিপিকা, মুক্তধারা, শিশু ভোলানাথ, Creative Unity.  

বহির্বিশ্বে: ৫ই ফেব্রুয়ারি চৌরিচৌরা থানায় জনরোষে ২৫ জন পুলিশকর্মী নিহত, কংগ্রেসের সকল শাখা অবৈধ ঘোষণা। ১২ই ফেব্রুয়ারি গান্ধীজী কর্তৃক আইন অমান্য আন্দোলন প্রত্যাহার ও প্রথম কারাবরণ। ইটালিতে ফ্যাসিস্ট সরকার (মুসোলিনি), তুরস্কে প্রজাতন্ত্র (আতাতুর্ক), আইরিশ ফ্রি স্টেট প্রতিষ্ঠিত। প্যালেস্টাইনের শাসনভার ব্রিটেনকে দেয় লীগ অফ নেশন্‌স। মিশরে টুটেনখামেনের কবর আবিষ্কার। ইন্‌সুলিন আবিষ্কার। দৈনিক 'আনন্দবাজার পত্রিকা' ও 'মাসিক বসুমতী' প্রকাশ। নন্দলাল বসু কলাভবনের অধ্যক্ষ পদ গ্রহণ করলেন। আলেক্‌জাণ্ডার গ্রেহাম বেলের মৃত্যু। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: শ্রীশ্রীসিদ্ধেশ্বরী লিমিটেড (পরশুরাম), এ হিস্ট্রি অফ ইণ্ডিয়ান ফিলজফি ১ (সুরেন্দ্রনাথ দাশ্গুপ্ত), দি ওয়েস্ট ল্যাণ্ড (এলিয়ট), অ্যানা ক্রিস্টি (ওনীল), দি ফোরা্‌সাইট সাগা ১ (গল্‌স্‌ওয়ার্দি), দি এন্‌চ্যান্‌টেড সোল (রল্যাঁ), সিদ্ধার্থ (হেস্‌), ইউলিসিস (জয়েস)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  



... বাংলা গান বাণীপ্রধান, আপনি যতই সুরজ্ঞ হন, বাংলা গান শুনতে হ'লে কথার দিকে কিছু মন না দিয়ে উপায় নেই, এবং কথা খারাপ হ'লে উপভোগে কিছু অন্তত ব্যাঘাত যার না হয় বলতেই হবে তার অনুভূতিগুলি সম্পূর্ণ বিকশিত নয়। সেই জন্যে বাংলা গানের ভালো কবিতা হওয়া দরকার। বাংলা গান এমন হওয়া উচিত যা ছাপার অক্ষরে প'ড়েও ভালো লাগে। এ রকম কিছু গান লিখেছেন দ্বিজেন্দ্রলাল, অতুলপ্রসাদ, নজরুল ইসলাম -- তাঁদের সুখ্যাতি নিশ্চয় করবো; কিন্তু রবীন্দ্রনাথ গানের ছলে কাব্যের যে চোখ-ধাঁধানো, প্রাণ-কাড়ানো হিসেব-হারানো ঐশ্বর্য আমাদের ঘরের আঙিনায় ছড়িয়ে দিয়েছেন, তার কথা আমরা কী বলবো? এ-গানগুলি শ্রেষ্ঠ কবিতা, রবীন্দ্রকাব্যের মধ্যেও শ্রেষ্ঠ। আশ্চর্য এই যে দেড় হাজার দু'হাজার গানের মধ্যে প্রায় প্রতিটিই কবিতা হিসেবে সার্থক, বেশির ভাগই অনিন্দ্য। এ থেকে এটুকু বোঝা যায় যে তিনি নিজের মনে তাঁর গানে ও গীতিকবিতায় জাতের কোনো তফাৎ মানেন না, যদিও এখন পর্যন্ত তাঁর নিজের কোনো কাব্যসংকলনেই এমন কোনো রচনা স্থান পায়নি যা নিছক গান।

... সমালোচককে মুখ খোলবার কোনো সুযোগই দেবে না রবীন্দ্রনাথের গান। গানগুলি যে-কোনো অর্থেই নিখুঁত। এমন একান্ত সরল, ঋজু, জাদুকর ভাষা রবীন্দ্রনাথ আর কোথাও ব্যবহার করেন নি। এত বিচিত্র ছন্দ, এমন চমক-লাগান অভিনব মিল, এমন ললিত মধুর অনুপ্রাস তাঁর কবিতায় নেই। অথচ পড়বার সময় কখনো এমন মনে হয় না যে এগুলো কবির কারিগরি, মনে  হয় সবই সহজ, স্বতঃস্ফূর্ত, মনে হয় ছন্দ মিল অনুপ্রাস সব নিয়ে সম্পূর্ণ রচনা একটি সম্পূর্ণ ফুলের মতো আপনিই ফুটে উঠেছে। রবীন্দ্রনাথের সব গানেই এই একটি আত্মজ ভাব ধরা পড়ে, ওরা যেন একটা জৈব পদার্থ, কারো রচিত নয়; জীবজগত উদ্ভিদজগতের অফুরান বিচিত্রতার মতো ওরা শুধু আছে, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই, ব্যাখ্যার প্রয়োজনও নেই। কলাকৌশল এত ও এতরকমের যে গুনে শেষ হয় না। মিল, মধ্য-মিল, অর্ধ-মিল, স্বর-মিল -- সদ্যোজাত অপূর্ব সে সব মিল -- শুধু মিলের আলোচনাতেই এক দীর্ঘ প্রবন্ধ দাঁড়িয়ে যায়। আবার মিল নেই এমন গানও অছে; সংস্কৃত-বহুল গাম্ভীর্য থেকে একেবারে মুখের ভাষার স্বচ্ছ সরলতা পর্যন্ত বাংলা ভাষায় সম্ভব এমন-কোনো আলো-ছায়ার খেলা নেই, যা ধরা না পড়েছে তাঁর গানে; চায়ের গানের মতো যেন বাজী ধ'রে লেখা স্রেফ কারিগরির রচনাও আছে, যদিও সংখ্যায় নগণ্য; 'মেঘের পরে মেঘ জমেছে'-র মতো তরল শিশু-ভাষা থেকে 'অহো এ কী নিদারুণ স্পর্ধা, অর্জুনে যে করে অশ্রদ্ধা!'-র মতো অসম্ভব যুক্তাক্ষর পর্যন্ত সব রকম কথা, সব রকম ধ্বনিবিন্যাস অনায়াসে বসেছে। ছন্দের বৈচিত্র্যের তো শেষ নেই। যে-তিনমাত্রার ছন্দ রবীন্দ্রনাথের বৈশিষ্ট্য তার নানারকম রূপের ব্যবহার গানে পৌনঃ-পুনিক, আছে ছড়ার ছন্দ, আছে পয়ার, আছে ছন্দের নানা নতুন ঢং। ... মনে হয় বাংলা ভাষায় পদ্যের ছন্দে যত রকম আওয়াজ যত রকম সুর বের করা সম্ভব সব তিনি নিঃশেষ করে দিয়েছেন তাঁর গানে। কলাকৌশল বিস্ময়কর, কিন্তু চায়ের গানের মতো দু'একটি ঈষৎ লঘু রসের রচনা ছাড়া কোথাও মনে হয় না কোনো কৌশল আছে, মনে হয় এরা আপনিই হয়েছে, বিশ্বপ্রকৃতির বিভিন্ন ভঙ্গির মতো একটি আদিম অনির্বচনীয়তা নিয়ে এরা কাছে এসে দাঁড়ায়। আমার মনে হয় এখানেই কবিতার উপর গানের জিৎ। কবিতা যত ভালোই হোক তার কলাকৌশল দেখতে পাই, কলকব্জাগুলোর নামও জানি, কবি কী করতে চেয়েছেন ও কী করেছেন তা বুঝতে পেরে তাঁর দক্ষতার তারিফ করি শত মুখে, কিন্তু গানে -- রবীন্দ্রনাথের গানের মতো গানে -- সমগ্র জিনিষটি এক ধাক্কায় এক সঙ্গে হৃদয়ে এসে ঢোকে, ব্যাপারটা কী হলো তা বোঝবার সময় পাওয়া যায় না। বিশুদ্ধ কবিতা ব'লে কিছু যদি থাকে তা এই গান।  
     --বুদ্ধদেব বসু, রবীন্দ্রনাথের গান,কবিতা রবীন্দ্র-সংখ্যা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশীতিতম জন্মদিনে প্রকাশিত, ২৫ বৈশাখ, ১৩৪৮ (৮ই মে ১৯৪১)। পুনর্প্রকাশ (ফ্যাক্সিমিলি সংস্করণ) বিকল্প প্রকাশনী, কবিপক্ষ, ১৪১০