গীতবিতান-GITABITAN
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে।

Book Cover

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১৩১২ (১৯০৫)
কবির বয়স: ৪৪
প্রকাশ: ভাদ্র ১৩১২ , ভাণ্ডার-একা |
বাউল-একা;গান (১৩১৬, জাতীয়)।
Poems 40; The Music of Hindosthan, Fox-Strangways; Rabindranath - Basanta Koomar Roy
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): স্বদেশ-স্বদেশ; ৩/২৪৪
রাগ / তাল: বাউল / দাদরা
স্বরলিপি: সঙ্গীত প্রকাশিকা; সঙ্গীতবিজ্ঞান প্রবেশিকা; স্বরবিতান ৪৬
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী; ঐ; ঐ
পাদটিকা:
অন্য-ভাঙা গান, 'হরি নাম দিয়ে জগত মাতালে', প্রাপ্তিস্থান - শতগান [ র-ত্রি ];[ র-ভা ]। 'শতগানে' বাউল বলে উল্লিখিত কিন্তু সুরটি আসলে ঢপ কীর্তন। লালন ফকিরের 'কথা কয় কাছে দেখা যায় না' গানের সুরের সঙ্গে গভীর মিল [অরুণকুমার বসু, রবি-বাউলের সন্ধানে।]।  
পাঠভেদ:
তবে একলা চলো...একলা চলো রে
    [বাউল]।  

আলোচনা

আদর্শ গান:

   বৈষ্ণব বাউল/দাদরা

হরিনাম দিয়ে জগত মাতালে
    আমার একলা নিতাই।
    আমার একলা নিতাই
    একলা নিতাই, একলা নিতাই
      একলা নিতাই রে।
আমার নিতাই যদি
  ডাকরে নিতাই গৌর বলে,
যদি মনে করে
  তবে গৌর নিলেই নিতে পারে।
    আমার নিতাই নিত্‌ গৌর,
    ডাকরে নিতাই গৌর বলে,
    নিত্য কল্পতরু, প্রেম দাতা
      জগতের গুরু।
আমার নিতাই নবরূপা,
  ডাকরে নিতাই গৌর বলে,
    নিতাই নবরূপা।
নব রাসবিহারী,
  নিতাই ক্ষণেক পুরুষ, ক্ষণেক নারী
      একলা নিতাই॥  
     --বুদ্ধদেব রায়, সুনির্বাচিত বাউল গানের স্বরলিপি  



এর পর [১৩০৮] যখন কলেজের উঁচু শ্রেণীতে উঠেছি তখন এলো বঙ্গভঙ্গের আন্দোলন। যে আবেগ ও উত্তেজনা বাঙ্গালী শিক্ষিত সম্প্রদায়ে, বিশেষ আমাদের ছাত্র সম্প্রদায়ে জেগে উঠলো তার অনুরূপ কিছু এ সম্প্রদায়ের জীবনে পূর্বে কখনো ঘটে নি, এবং পরেও আজ পর্যন্ত ঘটে নি। এই দেশব্যাপী উন্মাদনার মধ্যে রবীন্দ্রনাথ তাঁর দূরত্ব ঘুচিয়ে আমাদের মধ্যে এলেন, হ'য়ে উঠলেন ছাত্রদের অন্তরঙ্গ। প্রথম রাখী-বন্ধনের দিন গান চাই। "বাংলার মাটি বাংলার জল" প্রস্তুত। টাউন হলের বিরাট জন সভায় গাওয়ার জন্য গান দরকার। এলো "আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি।" তাঁর সুরের সঙ্গে আমাদের বেসুর মিশিয়ে সে গান আমরা সে সভায় গেয়েছি। দিনের পর দিন তাঁর প্রবন্ধে, কবিতায়, গানে আমাদের অনুভূতির তন্ত্রী ঝন্‌ ঝন্‌ করে কেঁপে উঠতে লাগলো। "মোদের যাত্রা হ'লো সুরু", " বিধির বাঁধন কাটবে তুমি", "ছি ছি চোখের জলে", "যদি তোর ডাক শুনে", "যদি তোর ভাবনা থাকে" -- সেদিনকার কতকগান কাব্য-ভাণ্ডারে অক্ষয় হ'য়ে থাকবে। কিন্তু সেদিনের তরুণ যুবকদের পক্ষে বৃদ্ধ বয়সেও বিশুদ্ধ সাহিত্যিক বোধ দিয়ে এসব গান যাচাই করা অসম্ভব। রবীন্দ্রনাথের গান কণ্ঠে নিয়ে নির্ভয়ে ফাঁসিকাঠে উঠতে পারে তার সংখ্যা আমাদের মধ্যে কম ছিল না। যে মোহের অবশেষ মনের মধ্যে আজও আছে।  
     --অতুলচন্দ্র গুপ্ত, আমাদের ছাত্রাবস্থা ও রবীন্দ্রনাথ, কবিতা রবীন্দ্র সংখ্যা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অশীতিতম জন্মদিনে প্রকাশিত, ২৫শে বৈশাখ, ১৩৪৮,  সম্পাদক: বুদ্ধদেব বসু (পুনর্মুদ্রণ ১৪০৯)  


রবীন্দ্রনাথের অনেক গান বিপ্লববাদীরা তাহাদের কাজে লাগাইয়াছে।. . . কোনো বিপ্লববাদী যখন দুই চারিজন বন্ধুর সঙ্গে নির্জনে বসিয়া নিজেকে সত্যই একলা মনে করিয়া প্রাণের আবেগে গাহিত " যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে " তখন বিপ্লববাদীরা নববলে বলীয়ান হইয়া উঠিত।. . . যখন একে একে অনেকেই দল ছাড়িল বিপ্লববাদীরা তখন গাহিত " যে তোমায় ছাড়ে ছাড়ুক "। এমনি করিয়াই বিপ্লববাদীরা বল পাইয়াছে ভরসা পাইয়াছে।
  
     --নলিনীকিশোর গুহ, বাংলায় বিপ্লববাদ, ১৩৭৬  


ব্রাহ্মসমাজের পণ্ডিত সীতানাথ তত্ত্বভূষণের কন্যা শান্তিময়ী দত্ত [পরে সুগায়িকা হিসাবে খ্যাতিলাভ করেন] লিখছেন: "রবীন্দ্রনাথকে প্রথম দেখি ১৯০৬ খৃস্টাব্দে।... ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরূপে গানের ক্লাসে গান শিখি--হঠাৎ একদিন ডাক এল রাস্তার অপরদিকের স্যার জগদীশ বসুর বাড়ি থেকে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর সদ্য-লেখা স্বরচিত স্বদেশী গান শোনাবেন সেখানে। বিদ্যালয়ের গান-জানা মেয়েরা তাঁর মুখ থেকে শুনে গানগুলি শিখে নেবে।... অর্গানে বসেছেন সি আর দাশের ভগ্নী অমলা দাশ। কবি এসে পকেট থেকে ছোট নোটবই খুলে গাইলেন, ' যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে ' এবং ' এবার তোর মরা গাঙে বান এসেছে '।

প্রথমে তিনি একবার গাইলেন খালি গলায়। তারপর অমলা দাশের বাজনার সঙ্গে। দরাজ, উচ্চ কণ্ঠস্বর কিন্তু একটু মেয়েলি ধরনের। তাঁর সেই সু-উচ্চ মিষ্ট কণ্ঠস্বরে ঘরখানা যেন গম্‌গম্‌ করে ভরে গেল।... আমরা মেয়েরা গান শিখব কী-- গায়কের চোখ-ধাঁধানো রূপে-- অতুলনীয় গানের মাধুর্যে যেন সম্মোহিত হয়ে চেয়ে রইলাম।" (৪৩)  

কামাখ্যাকান্ত রায় [শান্তিনিকেতন প্রাক্তনী] বলছেন: "প্রাক্‌-কুটিরের পুবদিকের উত্তর কোণে একটি জাপানী অরগ্যান ছিল। সন্ধ্যায় গুরুদেব এটি বাজিয়ে আমাদের গান শেখাতেন। 'একলা চলো, একলা চলো'-- ছাত্রদের কণ্ঠে তুলে দেবার জন্য তিনি অনেকবার গেয়েছেন, এবং অনেকদিন ধরে।" (৬১)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত  


'হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতালে আমার একলা নিতাই' লৌকিক কীর্তনের সুরে রচিত যশোহর অঞ্চলে প্রচলিত একটি নিত্যানন্দ-ভজন (ভাষায় যশোহর-খুলনা-নদীয়া-ফরিদপুরের আঞ্চলিক উপভাষার প্রভাব সুস্পষ্ট) এবং এর সুরের আদর্শেই 'যদি তোর ডাক শুনে' গানটি রচিত হয়েছিল। কিন্তু সেই সঙ্গে লালন ফকিরের সুবিখ্যাত 'কথা কয় কাছে দেখা যায় না' গানটির সুরও কবির স্মরণে ছিল, গানটির সঙ্গে 'হরিনাম দিয়ে' গানটির সুরগত মিল দুর্লক্ষ্য নয়। লালনের গানটি কবির অবশ্যই জানা ছিল, কারণ বীণাবাদিনী পত্রিকায় ১৩০৫ ফাল্গুন সংখ্যায় ইন্দিরা দেবী গানটির স্বরলিপি প্রকাশ করেন।  
     --অরুণকুমার বসু, 'আমার আপন গান', একুশশতক, ১৪১৮  


 

 

যদি তোর   ডাক শুনে কেউ না আসে   তবে   একলা চলো রে।
একলা চলো,  একলা চলো,  একলা চলো,  একলা চলো রে॥
যদি    কেউ কথা না কয়,   ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি    সবাই থাকে মুখ ফিরায়ে   সবাই করে ভয়--
               তবে   পরান খুলে
ও তুই  মুখ ফুটে তোর মনের কথা   একলা বলো রে॥
যদি    সবাই ফিরে যায়,  ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি    গহন পথে যাবার কালে কেউ ফিরে না চায়--
               তবে   পথের কাঁটা
ও তুই  রক্তমাখা চরণতলে   একলা দলো রে॥
যদি    আলো না ধরে,   ওরে ওরে ও অভাগা,
যদি    ঝড়-বাদলে আঁধার রাতে   দুয়ার দেয় ঘরে--
               তবে    বজ্রানলে
আপন    বুকের পাঁজর জ্বালিয়ে নিয়ে    একলা জ্বলো রে॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

40

I  F they answer not to thy call walk alone,
If they are afraid and cower mutely facing
     the wall,
O thou of evil luck,
open thy mind and speak out alone.

If they turn away, and desert you when
     crossing the wilderness,
O thou of evil luck,
trample the thorns under thy tread,
and along the blood-lined track travel
     alone.

If they do not hold up the light
when the night is troubled with storm,
O thou of evil luck,
with the thunder flame of pain ignite
     thine own heart
and let it burn alone.
  

Poems: a collection of one hundred and thirty poems, all but fifteen of which have been translated by the Poet himself. Edited by Krishna Kripalani, Amiya Chakrabarty and others.  
     --Rabindranath Tagore, Poems, Visva-Bharati, 1942  



Another version:

Jadi tor dak

I F no one responds to your call then go on alone.
  And if there is no one to speak out, and if they turn their face and are afraid, then open your heart and speak only you. Speak alone, speak alone.
  If every one goes back and none accompanies you in the difficult path, then tread the thorns with bloody feet alone. Tread alone, tread alone.
  If there is no one to light the lamp, and if every one shuts his door in the stormy dark night, then burn the ribs of your heart with the thunder fire and burn alone, burn alone.
  
     --Rabindranath Tagore, in The Music of Hindostan, A.H. Fox Strangways, Oxford, 1914.  



And yet another version:

I F nobody responds to your call, then follow the path all alone, all alone; if every one is afraid and nobody wants to speak to you, then, O, you unfortunate ! speak to yourself the story of your own sorrow; if while travelling in the wilderness, everybody deserts you and turns against you, mind them not, but trample the thorns and bathe your feet with your own blood, and go all by yourself. If again in the stormy night you do not find a single soul to hold the light for you, and they all close their doors against you, be not faint-hearted, forlorn patriot, but take a rib out of your side and light it with the fire of lightning, and then follow the gleam, follow the gleam.   
     --Basanta Koomar Roy, Rabindranaath Tagore: The Man and His Poetry, Dodd, Mead & Co., New York,1925  



A different kind of interest and a still greater pleasure was afforded by a visit to Rabindranath Tagore, the Bengali poet. In accordance with the best Indian tradition he is poet and musician in one. His poetry is beginning to speak to us for itself : even in a few scattered translations it is possible to hear the voice of a man. who thinks deeply and truly, who sees things as they really are, making- invisible things visible as florescence does in optics, and touching them with tenderness and reverence. To hear him recite his poems is to be reminded of the way in which Tennyson is said by his biographer to have recited Maud ; and indeed such a line as "Laborious orient ivory sphere in sphere" has something of the ring of Bengali verse about it, while the terseness, the inheritance of the Sutras, of a language which is the descendant of that compact wonder, Sanskrit, we could hardly parallel short of Horace. To hear him sing them is to realize the music in a way that it is seldom given to a foreigner to do. The notes of the song are no longer their mere selves, but the vehicle of a personality, and as such they go behind this or that system of music to that beauty o sound which all systems put out their hands to seize. These melodies are such as would have satisfied Plato. I do not know the modes/ said Socrates, but leave me one that will imitate the tones and accents of a brave man enduring danger or distress, fighting with constancy against fortune ; and also one fitted for the work of peace, for prayer heard by the gods, and for the successful persuasion or exhortation of men. (92)  
     --A.H. Fox Strangways, The Music of Hindostan, Oxford, 1914  


১৯০৫ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  ১৯শে জানুয়ারি ৮৮ বছর বয়সে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু। বিধুশেখর ভট্টাচার্য শান্তিনিকেতনে শিক্ষক হয়ে এলেন। মাসিক 'ভাণ্ডার' পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। আগরতলায় ত্রিপুরা সাহিত্য সমিতির আমন্ত্রণে গিয়ে 'দেশীয় রাজ্য' প্রবন্ধ পাঠ করলেন। লর্ড কার্জনের বঙ্গভঙ্গের প্রস্তাবে দেশব্যাপী বিক্ষোভে রবীন্দ্রনাথ যোগ দিলেন, 'অবস্থা ও ব্যবস্থা' প্রবন্ধে ব্রিটিশ দ্রব্য বয়কট ও অসহযোগ নীতির কথা বললেন। ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ হোলো। প্রতিবাদে শোভাযাত্রা হোলো রাখীবন্ধন উৎসব করে, 'বাংলার মাটি, বাংলার জল' গান গেয়ে। কবি নিজে এক বিরাট শোভাযাত্রার অগ্রণী হয়ে বঙ্গভঙ্গের প্রতিবাদ ও সকল বাঙালির মিলনের শপথ গ্রহণ ঘোষণা করলেন। বেশীর ভাগ স্বদেশী সঙ্গীত এই সময়ের রচনা। কিছুকাল এই আন্দোলনে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থেকে কবি আন্দোলনের পথ থেকে সরে যান। ২২শে অক্টোবর ছাত্রদের রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করে কুখ্যাত কার্লাইল সার্কুলার জারি করা হয়। তার প্রতিবাদে বহু ছাত্রসভায় বক্তৃতা। শেষে সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের ডন সোসাইটিতে আন্দোলনের পথ ছেড়ে দেবার কথা ঘোষণা। কুষ্টিয়ায় বয়ন বিদ্যালয়, পতিসরে কৃষিব্যাঙ্ক এবং নিজ জমিদারিতে নানা গঠনমূলক কাজ শুরু করলেন। প্রকাশ: আত্মশক্তি, বাউল, স্বদেশ।

বহির্বিশ্বে: ১৮ ফেব্রুয়ারি লণ্ডনে ইণ্ডিয়ান হোম রুল সোসাইটি স্থাপিত হয়। ২০শে জুলাই ব্রিটিশ পার্লামেণ্ট বঙ্গভঙ্গ প্রস্তাব অনুমোদন করে। ১৯শে অগাস্ট লর্ড কার্জন পদত্যাগ করেন, নতুন বড়লাট লর্ড মিণ্টো। ১৬ই অক্টোবর বঙ্গভঙ্গ কার্যকরী হয়। ঢাকা শহরে রাজধানী করে পূর্ববাংলা ও আসাম মিলিয়ে এক নতুন প্রদেশ গঠন করা হয়। রাখীবন্ধন, স্বদেশী গান গেয়ে শোভাযাত্রা এবং অরন্ধন ইত্যাদি দ্বারা বাঙালী শোক প্রকাশ করে। রাশিয়ার সঙ্গে জাপানের যুদ্ধে জাপানের জয়, শান্তিনিকেতনে বিজয়োৎসব। রাশিয়াতে জারতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিপ্লব। ডাবলিনে সিন্‌-ফিন পার্টির প্রতিষ্ঠা। সান-ইয়াৎ-সেন চীনের গুপ্তসমিতিগুলিকে একত্র করলেন মাঞ্চুদের বিতাড়নের জন্য।  লণ্ডনে মোটর বাস চলা আরম্ভ হোলো। আইনস্টাইন প্রকাশ করলেন বিশেষ আপেক্ষিকবাদ। উল্লেখযোগ্য সাহিত্য: বাঙালীর গান (দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত), ডি প্রোফাণ্ডিস (ওয়াইল্ড), রাইডার্স টু দি সী (সিন্‌জ্‌)।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


মুসোলিনির নিমন্ত্রণে ১৯২৬ সালের জুন মাসে রবীন্দ্রনাথ ইটালি যান। সেখানে টুরিন শহরে ২০শে জুন এক মহতী সভায় তাঁর বক্তৃতার পরে শ্লাভালিপো এভিট্‌জকা নামে এক মহিলা কবি তিনটি বাংলা গান করেন -- ' হে মোর দেবতা ', ' আমি চিনি গো চিনি ' ও ' যদি তোর ডাক শুনে কেউ '। সেই সফরের ভ্রমণসঙ্গিনী নির্মলকুমারী মহলানবিশ লিখছেন: "বিদেশী ঢং-এ গাওয়া হলেও তার স্বদেশী রঙ চাপা পড়েনি। বিশেষ করে 'যদি তোর ডাক শুনে' গানটা যেন চিরকালের চেনা সুরেই শুনতে পেলাম। শ্রোতার দল কবির সঙ্গীতের আভাস পেয়ে প্রশংসায় উচ্ছ্ব্সিত, হাততালি বহুক্ষণ আর থামে না।" (৯৮)  
     --সমীর সেনগুপ্ত, গানের পিছনে রবীন্দ্রনাথ, প্যাপিরাস, ২০০৮