গীতবিতান-GITABITAN
জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!

Photo

রচনা পরিচিতি
রচনাকাল:  ১৩১৮ (ডিসেম্বর,১৯১১)
কবির বয়স: ৫০
রচনাস্থান: কলকাতা
প্রকাশ: মাঘ ১৩১৮ , তত্ত্ববোধিনী পত্রিকা-ভারতবিধাতা |
ধর্মসঙ্গীত (১৯১৪)।
'The Morning Song of India' -- The Bengalee, Dec 1911; Poems 51 by the poet himself
গীতবিতান(পর্যায়;#/পৃ): স্বদেশ-স্বদেশ; ১৪/২৪৯
রাগ / তাল: ইমন / কাহারবা
স্বরলিপি: আনন্দসঙ্গীত পত্রিকা(১৩২৫); গীতপঞ্চাশিকা (১৩২৫); বাকে; সঙ্গীতগীতাঞ্জলি; ভারততীর্থ (১৩৫৪); স্বরবিতান ১৬ (গীতপঞ্চাশিকা);স্বরবিতান ৪৭
স্বরলিপিকার: ব্রজেন্দ্রলাল গাঙ্গুলি; দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; এ. এ. বাকে; ভীমরাও শাস্ত্রী; দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর; ঐ; ঐ
পাদটিকা:
২৮শে ডিসেম্বর ১৯১১, কোলকাতায় কন্‌গ্রেস অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে গানটি উদ্বোধনী সঙ্গীত হিসেবে গীত হয়। সম্পূর্ণ কাকতালীয় যে সেসময় ইংল্যাণ্ডের সম্রাট পঞ্চম জর্জ কোলকাতায় ছিলেন। অনেকে মনে করেন গানটি রাজপ্রশস্তি হিসেবে রচিত; একথা আদৌ সত্য নয়। এখনও এ ধুয়ো ওঠে মাঝে মাঝে। বিশদ তথ্য নীচে দেওয়া গেল।  
২৮শে অক্টোবর ১৯৩৭, কোলকাতার কন্‌গ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি গানটিকে ভারতের জাতীয় সঙ্গীতের স্বীকৃতি দেয় এবং স্বাধীনতা লাভের পর থেকে প্রথম স্তবকটি স্বাধীন ভারতের জাতীয় সঙ্গীত।
পাঠভেদ:
পাঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মারাঠা...
তুমি চিরসারথি
    [ গীবিন ] ১ম সং ১৩৩৮।  

আলোচনা

জনগণমনঅধিনায়ক গানটি কোনো উপলক্ষ্য-নিরপেক্ষ ভাবে আমি লিখেছি কিনা তুনি জিজ্ঞাসা করেছ। বুঝতে পারছি এই গানটি নিয়ে দেশের কোনো কোনো মহলে যে দুর্বাক্যের উদ্ভব হয়েছে তারই প্রসঙ্গে প্রশ্নটি তোমার মনে জেগে উঠল। তোমার চিঠির জবাব দিচ্ছি কলহের উষ্মা বাড়াবার জন্য নয়, ঐ গান রচনা সম্বন্ধে তোমার কৌতূহল মেটাবার জন্যে।...

সে বৎসর ভারতসম্রাটের আগমনের আয়োজন চলছিল। রাজসরকারে প্রতিষ্ঠাবান আমার কোনো বন্ধু সম্রাটের জয়গান রচনার জন্যে আমাকে বিশেষ করে অনুরোধ জানিয়েছিলেন। শুনে বিস্মিত হয়েছিলুম, সেই বিস্ময়ের সঙ্গে মনে উত্তাপেরও সঞ্চার হয়েছিল। তারই প্রবল প্রতিক্রিয়ার ধাক্কায় আমি জনগণমনঅধিনায়ক গানে সেই ভারতভাগ্যবিধাতার জয়ঘোষণা করেছি, পতনঅভ্যুদয়বন্ধুর পন্থায় যুগযুগধাবিত যাত্রীদের যিনি চিরসারথি, যিনি জনগণের অন্তর্যামী পথপরিচায়ক-- সেই যুগ যুগান্তরের মানবভাগ্যরথচালক যে পঞ্চম বা ষষ্ঠ বা কোনো জর্জ্‌াই কোনোক্রমেই হতে পারেন না, সে কথা রাজভক্ত বন্ধুও অনুভব করেছিলেন। কেননা তাঁর ভক্তি যতই প্রবল থাক্‌, বুদ্ধির অভাব ছিল না। আজ মতভেদবশত আমার প্রতি ক্রুদ্ধ ভাবটা দুশ্চিন্তার বিষয় নয়, কিন্তু বুদ্ধিভ্রংশটা দুর্লক্ষণ। (২৪৬)

    --পুলিনবিহারী সেনকে লেখা চিঠি, ২০শে নভেম্বর ১৯৩৬  

তুমি যে প্রশ্ন করেছ এ রকম অদ্ভুত প্রশ্ন পূর্বেও শুনেছি।

'পতনঅভ্যুদয় বন্ধুর ... দিনরাত্রি'-- শাশ্বত মানব-ইতিহাসের যুগযুগধাবিত পথিকদের রথযাত্রায় চিরসারথি বলে আমি চতুর্থ বা পঞ্চম জর্জের স্তব করতে পারি, এরকম অপরিমিত মূঢ়তা আমার সম্বন্ধে যাঁরা সন্দেহ করতে পারেন তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আত্মাবমাননা। (২৪৭)

    --সুধারানী সেনকে লেখা চিঠি, ২৯শে মার্চ, ১৯২৯ (?)  

'জনগণমনঅধিনায়ক' গানটার যে মাত্রাধিক্যের কথা বলেছ সেটা অন্যায় বল নি। ঐ বাহুল্যের জন্যে 'পঞ্জাব' শব্দের প্রথম সিলেব্‌ল্‌টাকে দ্বিতীয় পদের গেটের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখি--

    পন্‌। জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা ইত্যাদি।

'পঞ্জাব'কে 'পঞ্জব' করে নামটার আকার খর্ব করতে সাহস হয়নি, ওটা দীর্ঘকায়াদের দেশ। ছন্দের অতিরিক্ত অংশের জন্য একটু তফাতে আসন পেতে দেওয়া রীতি বা গীতি বিরুদ্ধ নয়। [১৮ অক্টোবর ১৯২৯]...

'জনগণ' গান যখন লিখেছিলেম তখন 'মারাঠা' বানান করি নি। মরাঠিরাও প্রথম বর্ণে আকার দেয় না। তার পরে যাঁরা শোধন করেছেন তাঁরাই নিরাকারকে সাকার করে তুলেছেন, আমার চোখে পড়ে নি। [১০ই নভেম্বর ১৯২৯]

    --দিলীপকুমার রায়কে লেখা দুটি চিঠি  
     --রবীন্দ্রনাথ, সঙ্গীতচিন্তা, বিশ্বভারতী ১৩৭৩  



 

 

১৪

জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
পঞ্জাব সিন্ধু গুজরাট মরাঠা দ্রাবিড় উৎকল বঙ্গ
বিন্ধ্য হিমাচল যমুনা গঙ্গা উচ্ছলজলধিতরঙ্গ
     তব শুভ নামে জাগে,   তব শুভ আশিস মাগে,
               গাহে তব জয়গাথা।
জনগণমঙ্গলদায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥

অহরহ তব আহ্বান প্রচারিত, শুনি তব উদার বাণী
হিন্দু বৌদ্ধ শিখ জৈন পারসিক মুসলমান খৃস্টানী
     পূরব পশ্চিম আসে   তব সিংহাসন-পাশে
               প্রেমহার হয় গাঁথা।
জনগণ-ঐক্য-বিধায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥

পতন-অভ্যুদয়-বন্ধুর পন্থা, যুগ-যুগ ধাবিত যাত্রী।
হে চিরসারথি, তব রথচক্রে মুখরিত পথ দিনরাত্রি।
     দারুণ বিপ্লব-মাঝে   তব শঙ্খধ্বনি বাজে
               সংকটদুঃখত্রাতা।
জনগণপথপরিচায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥

ঘোরতিমিরঘন নিবিড় নিশীথে পীড়িত মূর্ছিত দেশে
জাগ্রত ছিল তব অবিচল মঙ্গল নতনয়নে অনিমেষে।
     দুঃস্বপ্নে আতঙ্কে   রক্ষা করিলে অঙ্কে
               স্নেহময়ী তুমি মাতা।
জনগণদুঃখত্রায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা!
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥

রাত্রি প্রভাতিল, উদিল রবিচ্ছবি পূর্ব-উদয়গিরিভালে--
গাহে বিহঙ্গম, পুণ্য সমীরণ নবজীবনরস ঢালে।
     তব করুণারুণরাগে   নিদ্রিত ভারত জাগে
               তব চরণে নত মাথা।
জয় জয় জয় হে, জয় রাজেশ্বর ভারতভাগ্যবিধাতা
     জয় হে, জয় হে, জয় হে, জয় জয় জয়, জয় হে॥

Portrait

বিবিধ তথ্য ও আলোচনা

51

T  HOU art the ruler of the minds of all
     people,
Thou Dispenser of India's destiny.
Thy name rouses the hearts
of the Punjab, Sind, Gujrat and Maratha,
of Dravid, Orissa and Bengal.
It echoes in the hills of the Vindhyas and
     Himalayas,
mingles in the music of Jumna and Ganges,
and is chanted by the waves of the
     Indian Sea.
They pray for thy blessing and sing thy
     praise,
Thou Dispenser of India's destiny,
Victory, Victory, Victory to thee.

Day and night,. thy voice goes out from
     land to land,
calling Hindus, Buddhists, Sikhs and Jains
     round thy throne
and Parsees, Mussalmans and Christians.
Offerings are brought to thy shrine by
     the East and the West
to be woven in a garland of love.
Thou bringest the hearts of all peoples
     into the harmony of one life,
Thou Dispenser of Iridia's destiny,
Victory, Victory, Victory to thee.

Eternal Charioteer, thou drivest man's
     history
along the road rugged with rises and falls
     of Nations.
Amidst all tribulations and terror
thy trumpet sounds to hearten those that
     despair and droop,
and guide all people in their paths of
     peril and pilgrimage.
Thou Dispenser of India's destiny,
Victory, Vicrory, Victory to thee.

When the long dreary night was dense
     with gloom
and the country lay still in a stupor,
thy Mother's arms held her,
thy wakeful eyes bent upon her face,
till she was rescued from the dark evil
    dreams
that oppressed her spirit,
Thou Dispenser of India's destiny,
Victory, Victory, Victory to thee.

The night dawns, the sun rises in the East,
the birds sing, the morning breeze brings
     a stir of new life.
Touched by golden rays of thy love
India wakes up and bends her head at
     thy feet.
Thou King of all Kings,
Thou Dispenser of India's destiny,
Victory, Victory, Victory to thee.
  

Poems: a collection of one hundred and thirty poems, all but fifteen of which have been translated by the Poet himself. Edited by Krishna Kripalani, Amiya Chakrabarty and others.  
     --Rabindranath Tagore, Poems, Visva-Bharati, 1942  



১৯১১ সনের পশ্চাৎপট:

রবীন্দ্রনাথের জগৎ:  শান্তিনিকেতনে পঞ্চাশতম জন্মোৎসব। তত্ত্ববোধিনী পত্রিকার (এখন থেকে শান্তিনিকেতন ব্রহ্মচর্যাশ্রমের মুখপত্র) সম্পাদনার ভার গ্রহণ। 'অচলায়তন' ও 'ডাকঘর' রচনা। 'জীবনস্মৃতি'র ধারাবাহিক প্রকাশ শুরু। প্রকাশ: শান্তিনিকেতন ১২-১৩, ছোটগল্প (ছোটদের উপযোগী)।

বহির্বিশ্বে: ১২ই ডিসেম্বর পঞ্চম জর্জের অভিষেক এবং সেই উপলক্ষ্যে বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। ২৭শে ডিসেম্বর কলকাতার কংগ্রেস অধিবেশনে 'জনগণমন" গীত। মোহনবাগান আই. এফ. এ শীল্ড জিতলো ব্রিটিশ দলকে হারিয়ে। মাঞ্চু রাজবংশের পতন ও সান-ইয়াৎ-সেনের উদ্যোগে চীনে প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। হলিউডে প্রথম চলচ্চিত্র নির্মিত। বাইশ খণ্ড বিশ্বকোষ সমাপ্ত। ভগিনী নিবেদিতার মৃত্যু।  
     --প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়, রবীন্দ্রজীবনকথা, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৩৯২ এবং  
চিত্তরঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদক, রবীন্দ্র-প্রসঙ্গ ৪, আনন্দ পাবলিশার্স, কলকাতা ১৯৯৮  


রবীন্দ্রসঙ্গীতে কথার উচ্চারণে নানা বিকৃতি লক্ষ্য করা যায়।...  
১) স্বরবর্ণের বিকৃতি বা ঘরোয়া উচ্চারণের প্রভাব। যেমন-- (ক) জনগণমন অধিনায়ক জয় হে গানটির ক্ষেত্রে--জনোগণোমনো অধিনায়ক জয়ো হে।  (খ) অয়ি ভুবনমনোমোহিনী গানটির ক্ষেত্রে-- ওই ভুবনোমোন-মুহিনী।

২) সফিস্টিকেটেড্‌ উচ্চারণ: প্রায়ই দেখা যায় স এর উচ্চারণ হয় ইংরেজি sh এর মতো। তা ছাড়া অ-কারের উচ্চারণ বিকৃত করে আ-কারের মতন করেও হয়।

৩) তৃতীয়তঃ কথার অংশে হসন্তের ব্যবহার।... যেমন 'আনন্দ' হয় 'আনন্‌ন্‌-দ্দ'। 'আমার মলল্‌-ল্লিকা বনে' কানে এসে ধাতব আওয়াজের মতো লাগে। অথবা 'মন মোর মেঘের সঙ্গী' এই গানটিতে 'রিমি ঝিম্‌ রিমি ঝিম্‌' এর বদলে 'রিম ঝিমম্‌... 'রিম ঝিমম্‌... 'রিম ঝিমম্‌' গাওয়া হয়। আলোচনা প্রসঙ্গে মনে পড়ছে রবীন্দ্রনাথ এই গানটি রচনা করেই প্রথম যখন আমাকে শেখাচ্ছিলেন তখন বারবার করে এই অংশটি এবং "ক্ব্চিৎ ক্বচিৎ চকিত তড়িত আলোকে', এই অংশগুলির যথাযথ উচ্চারণ নিজে গেয়ে দেখিয়ে যাচাই করে নিয়েছিলেন। ...  
     --শৈলজারঞ্জন মজুমদার, "রবীন্দ্রসংগীত শিক্ষাপ্রসঙ্গ", রবীন্দ্র ভাবনা, ২০০০ যুগ্ম সংখ্যা, টেগোর রিসার্চ ইনস্টিটুট, কলকাতা  (পৃঃ ১৫)  


এই বৎসর [১৩১৭ বঙ্গাব্দ] ১১ই মাঘ রাত্রে জোড়াসাঁকোর বাড়ির উৎসবে রবীন্দ্রনাথ আচার্য হইবেন শুনিয়াছিলাম। ... রবীন্দ্রনাথ উদ্বোধন ও উপদেশের ভার লইয়াছিলেন, স্বাধ্যায়ের ভার ছিল চট্টোপাধ্যায়-মহাশয়ের [চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায়] উপর। উপদেশের পর দু-লাইন গান গাহিয়া রবীন্দ্রনাথ শেষ করিলেন। গানগুলি যদিও অনেক নামকরা ওস্তাদরা গাহিলেন, তবু শুনিতে কিছু ভালো লাগিল না। রবীন্দ্রনাথ পিছন ফিরিয়া অনেকবার গানের সুর ও তাল সংশোধন করিয়া দিলেন, তাহাতেও সুবিধা হয় না দেখিয়া নিজেই গায়কদের সঙ্গে গান ধরিয়া দিলেন। ' জীবন যখন শুকায়ে যায় ', এই গানটি প্রথম শুনিলাম সেই দিন। আর শুনিলাম ' জনগণমন অধিনায়ক '। এই মহা-সংগীতটি কয়দিন আগেই রচিত হইয়াছিল। (৩৮)  
     --সীতা দেবী, পুণ্যস্মৃতি, জিজ্ঞাসা, কলকাতা, ১৩৯০  


এই 'জনগণমন-অধিনায়ক' রচনাটি কবি বিদেশে একাধিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি করেছেন। ২৭শে অক্টোবর ১৯২৬, রবীন্দ্রনাথ হাঙ্গেরির বুডাপেস্ত শহরে বক্তৃতার পরে বাংলায় রচিত দুটি কবিতা পড়লেন, একটি পূরবীর কবিতা আর একটি ঐ 'জনগণমন-অধিনায়ক'। শেষোক্ত রচনা পড়বার আগে ঘোষণা করা হল যে, এটি ভারতের একটি জাতীয় সংগীত। 'কবি যেই কবিতাটি আরম্ভ করলেন, অমনি ঘরসুদ্ধ সমস্ত লোক উঠে দাঁড়িয়ে স্তব্ধ হয়ে শুনল'।  -- নির্মলকুমারী মহলানবীশ।  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩  


দক্ষিণ ভারত পরিক্রমায় বেরিয়ে ১৯১৯-এর ফেব্রুয়ারিতে রবীন্দ্রনাথ মদনপল্লীতে পৌঁছলেন। মদনপল্লী থিওসোফিকাল কলেজের অধ্যক্ষ জেমস এইচ কাজিনস এক সভার আয়োজন করেন। সেই সভায় গান করলেন রবীন্দ্রনাথ 'জনগণমন অধিনায়ক জয় হে'। সেই গানের সুর এবং অর্থ কলেজ কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত অভিভূত করেছিল বলে জানা যায়; সেই গানটিই প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিনের অ্যাসেম্বলি সং বা বৈতালিক রূপে প্রচলিত হয়ে গেল। (৫৬)  

১৯৩০-এর সেপ্টেম্বরে জেনিভা থেকে সোভিয়েট রাশিয়াতে এসে মস্কো পায়োনিয়র্স কম্যুনে বালক-বালিকাদের কাছে অভ্যর্থনা পেলেন। সেখানে প্রশ্নোত্তরের পর্ব শেষ হলে তারা রবীন্দ্রনাথকে গান করতে অনুরোধ করল। কবি তাদের শোনালেন 'জনগণমন অধিনায়ক জয় হে'। অনুমান বিদেশে এই তাঁর শেষ গাওয়া। (৬৮)  
     --পার্থ বসু, "গায়ক রবীন্দ্রনাথ", আনন্দ - ১৩৯৩-তে উদ্ধৃত